মঙ্গলবার , ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ | ২৯ পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রকাশিত: ০৪:২৫ ১০ নভেম্বর ২০২৫
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শীতের আগাম বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই চারপাশে ছেয়ে যাচ্ছে হালকা কুয়াশা, ঘাসে জমছে শিশিরজল। দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই বাতাসে ঠান্ডার অনুভূতি বেড়ে যাচ্ছে। শীতের এই আগমন টের পেয়ে অনেক স্থানীয় বাসিন্দা ইতিমধ্যে গরম কাপড় ব্যবহার শুরু করেছেন।
আজ সোমবার (১০ নভেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, এদিন তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৭৩ শতাংশ। আবহাওয়াবিদ জিতেন্দ্রনাথ রায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগের দিন তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, নভেম্বরের মধ্যভাগ থেকে উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা ধীরে ধীরে আরও বৃদ্ধি পাবে।
সন্ধ্যার পর থেকেই তেঁতুলিয়ার স্থানীয় বাজারগুলোতে গরম চা, ভাজাপোড়া ও ঐতিহ্যবাহী ভাপা পিঠার দোকানে মানুষের ভিড় বাড়ছে। শীতের আগমনে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে এইসব দোকানপাট।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, “সন্ধ্যা নামলেই ঠান্ডা লাগে। রাতে চাদর ছাড়া থাকা যায় না। মনে হচ্ছে এবার শীত আগেভাগেই এসেছে।”
এদিকে, তেঁতুলিয়া ভ্রমণে আসা পর্যটক মেহেদী হাসান বলেন, “এখানকার বাতাস ঢাকার তুলনায় অনেক ঠান্ডা। সকালে শিশিরে ভেজা প্রকৃতি দেখতে দারুণ লাগে। এখানে এসে সত্যিই শীতের স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে।”
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, “আজ সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমছে এবং সামনের কয়েক দিনেও আরও হ্রাস পেতে পারে।”
উত্তরাঞ্চলের প্রবীণরা বলছেন, নভেম্বর মাসের শুরুতেই এমন ঠান্ডা পড়া খুব একটা সাধারণ ঘটনা নয়। তবে এবারের পরিস্থিতি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এ বছর শীত দীর্ঘস্থায়ী এবং তুলনামূলকভাবে বেশি হবে।
তেঁতুলিয়া—যা বাংলাদেশের ‘শীতের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত—সেখানে শীতের এই আগাম উপস্থিতি যেন প্রকৃতির এক নীরব ঘোষণা, “শীত আসছে”।
