• সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওসমান হাদির মৃত্যুতে উত্তাল দেশ,‘হিন্দু নির্যাতন’ বলে অপপ্রচারে ব্যস্ত ভারতীয় সংবাদমাধ্যম!

ওসমান হাদির মৃত্যুতে উত্তাল দেশ,‘হিন্দু নির্যাতন’ বলে অপপ্রচারে ব্যস্ত ভারতীয় সংবাদমাধ্যম!

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:১১ ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর সারা বাংলাদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিচার দাবি করছে। অভিযোগ উঠেছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ঘাতক দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছে। একই সঙ্গে ধারণা করা হচ্ছে, এই হত্যার পেছনে ভারত ও ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নির্দেশনা থাকতে পারে।

এমন গুরুতর অভিযোগ ও জনরোষের মধ্যেও Z ২৪ ঘণ্টা নামক ভারতীয় মিডিয়া সহ অনেক প্রভাবশালী গণমাধ্যম এ বিষয়ে কার্যত নীরব। বাংলাদেশের একজন রাজনৈতিক মুখপাত্রের হত্যাকাণ্ড, খুনি পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ কিংবা দেশজুড়ে প্রতিবাদের খবর—কোনোটিই ভারতীয় মূলধারার সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

বরং নীরবতার আড়ালে ওই সংবাদবাদ মাধ্যমসহ ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে ভিন্ন এক প্রচার শুরু করেছে। তারা ‘বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন’ শিরোনামে একের পর এক সংবাদ প্রকাশ করছে, যেগুলোর ভাষা ও উপস্থাপনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও উসকানিমূলক বলে আখ্যা দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত শিরোনাম—
“পিটিয়ে গাছে বেঁধে জ্যান্ত জ্বালাল বর্বরের দল!”,
“অশান্ত বাংলাদেশে হিন্দু যুবককে চরম নৃশংস খুন!”,
“হাইকমিশন অফিসে জঙ্গি হামলা, ভারতের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’”—
এসবকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

সমালোচকদের মতে, শহীদ ওসমান হাদির হত্যার মতো একটি বড় রাজনৈতিক ঘটনা আড়াল করে বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের অংশ। বাস্তব তথ্য যাচাই ছাড়াই এমন সংবাদ পরিবেশন সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।

এদিকে, বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে এবং দায়ীদের যেখানেই পাওয়া যাবে, আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা প্রচারে কান না দিতে দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংকটময় সময়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনই পারে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে; অন্যথায় ভ্রান্ত প্রচার ও মিডিয়া নীরবতা সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে।

বিজ্ঞাপন