আন্দোলনে ‘আহতদের খোঁজ মেলেনি’: শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ পিবিআইয়ের

আন্দোলনে ‘আহতদের খোঁজ মেলেনি’: শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ পিবিআইয়ের

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৩৯ ১২ জানুয়ারী ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আহতদের অস্তিত্ব ও অবস্থান নিশ্চিত করা না যাওয়ায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জন আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঢাকা মেট্রোপলিন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মামলার আসামিদের তালিকায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি রয়েছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মোহাম্মদ এ আরাফাত, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ, শামীম ওসমান, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানসহ মোট ১১৩ জন। মামলাটির তদন্ত শেষে পিবিআই এসব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত ৫ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেখানে তিনি মামলায় ‘তথ্যগত ভুল’ থাকার কথা উল্লেখ করেন। আদালত আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

মামলার পটভূমি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বিবরণে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ৪ আগস্ট সীমান্ত স্কয়ার এলাকা থেকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মীনা বাজারের সামনে সাহেদ আলী আহত হন। সে সময় ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ মোট নয়জন আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়। এই ঘটনায় সাহেদের কথিত ভাই শরীফ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

প্রাথমিক তদন্তে থানা পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় পিবিআইকে। তদন্তকালে পিবিআই কর্মকর্তা শাহজাহান ভূঞা আহত সাহেদ আলীসহ অন্য আহতদের খুঁজে পেতে ব্যর্থ হন। তিনি সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট, ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিঠি দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। একই সঙ্গে বাদীকে নোটিশ দিয়ে তার ভাইকে হাজির করতে অনুরোধ জানানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাদীর দেওয়া ঠিকানায় নোটিশ পাঠালে বাড়িওয়ালা জানান, শরীফ নামের কাউকে তিনি চেনেন না। জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা যায়, বাদীর প্রকৃত নাম শরিফুল ইসলাম এবং তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারী এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই নামের কাউকে এলাকাবাসী চিনতে পারেননি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাদীর মোবাইল ফোন নম্বর বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে। মাঝে মাঝে হোয়াটসঅ্যাপ চালু থাকলেও সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের মাধ্যমে ধানমন্ডি লেকের পাশে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা হলেও আহত ভুক্তভোগীকে হাজির করা কিংবা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়নি। এমনকি এজাহারেও আহতদের চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

সার্বিক তদন্তে অভিযোগের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ না পাওয়ায় পিবিআই শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জন আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এখন আদালতের পরবর্তী শুনানিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/