হিমালয়কন্যা তেঁতুলিয়ায় কনকনে শীত: তাপমাত্রা নেমে ৭.৩ ডিগ্রি, দুর্ভোগে জনজীবন

হিমালয়কন্যা তেঁতুলিয়ায় কনকনে শীত: তাপমাত্রা নেমে ৭.৩ ডিগ্রি, দুর্ভোগে জনজীবন

খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি
খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১:৫২ ১২ জানুয়ারী ২০২৬

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শনিবার (৭ জানুয়ারি) সকালে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন শুক্রবার তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সাম্প্রতিক সময়ে তাপমাত্রা কখনো ১০ ডিগ্রির নিচে, আবার কখনো ১৫ ডিগ্রির আশপাশে ওঠানামা করলেও বর্তমানে শীতের প্রকোপ নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে।

পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। টানা কয়েক দিন ঘন কুয়াশার পর দুই দিন সূর্যের দেখা মিললেও বিকাল গড়াতেই আবার হাড়কাপানো ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কুয়াশা আর কনকনে শীতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে শীতার্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম তেমন চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরকারিভাবে যে পরিমাণ শীতবস্ত্র বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। ফলে দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষ কাজকর্মে যেতে পারছেন না। ঘন কুয়াশা ও প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে উত্তরের জেলা হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, শীতজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যায় হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ অবস্থায় চিকিৎসকেরা শীত থেকে বাঁচতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।

ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও মহাসড়কে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, কুয়াশা ও ঠান্ডা পরিস্থিতি আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় জানান, শনিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ২ ডিগ্রি কম। এভাবে তাপমাত্রা আরও কমতে থাকলে আগামী কয়েক দিনে শীতের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আফরোজ শাহীন খসরু জানান, সরকারিভাবে যে পরিমাণ শীতবস্ত্র বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। তাই সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থাকে এগিয়ে এসে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তেঁতুলিয়া হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাকিল রহমান বলেন, শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। শীতজনিত কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত তেঁতুলিয়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাইদুল ইসলাম শাহ জানান, শীতার্ত মানুষের মাঝে ইতোমধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত শীতবস্ত্রের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মনছুর আলী জানান, সরকারি বরাদ্দে ইউনিয়নে মাত্র ২২৬টি কম্বল পাওয়া গেছে, যা বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় খুবই নগণ্য।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/