সোমবার , ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ | ২৯ পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রকাশিত: ০২:৪৪ ১২ জানুয়ারী ২০২৬
মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে শিয়া–সুন্নি বিভাজন নতুন কোনো বিষয় নয়। শিয়া, সুন্নি কিংবা ওয়াহাবি—এই পরিচয়গুলো যুগে যুগে রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তবে ইসলামের মূল শিক্ষা কখনোই এসব বিভাজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মুসলমান সেই ব্যক্তি, যিনি একমাত্র আল্লাহর আদেশ মানেন এবং একমাত্র আল্লাহর কাছে সিজদাহ করেন। এই মৌলিক সত্যের আলোকে বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে যে নেতৃত্ব সবচেয়ে আলোচিত ও প্রভাবশালী, তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনি।
১৯৩৯ সালের ১৭ জুলাই ইরানের মাশহাদ শহরে জন্মগ্রহণ করা খামেনি শৈশব থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা ও ইসলামি জ্ঞানচর্চায় আগ্রহী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি একজন আলেম, চিন্তাবিদ, লেখক ও কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ইসলামি বিপ্লবের সময়ে তিনি ইমাম খোমেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৮৯ সালে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন। সেখান থেকে আজ পর্যন্ত ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও আদর্শিক নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন।
আয়াতুল্লাহ খামেনির নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো জুলুম, আগ্রাসন ও পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাঁর স্পষ্ট অবস্থান মুসলিম বিশ্বের কাছে শক্ত বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্ব ইতিহাসে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেওয়া খুব কম দেশের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে, অথচ খামেনির নেতৃত্বে ইরান সেই সাহস দেখিয়েছে। ১২ দিনের সংঘাতে ইরান যেভাবে ইসরায়েলকে প্রতিহত করেছে, তা কেবল সামরিক লড়াই নয়; বরং আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী প্রতিরোধ।
কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি বৃহৎ সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা নজিরবিহীন। হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে আগাম অবহিত করা হয়েছিল, তারপরও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও তারা তা প্রতিরোধ করতে পারেনি। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ কারণেই আজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একত্রে মিলেও ইরানের বিরুদ্ধে একতরফা পদক্ষেপ নিতে পারছে না। সরাসরি যুদ্ধে নামার সাহস না পেয়ে তারা এখন অর্থনৈতিক চাপ, প্রলোভন ও তথ্যযুদ্ধের মাধ্যমে ইরানের ভিত দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
অনেক মুসলমানের দৃষ্টিতে খামেনি উমর (রা.)-এর দৃঢ়তা এবং আলী (রা.)-এর ন্যায়বোধের প্রতিফলন। তিনি শিয়া–সুন্নির ঊর্ধ্বে উঠে নিপীড়িত মুসলমানদের পক্ষে কথা বলেন। ফিলিস্তিন, ইয়েমেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের নিপীড়িত মানুষের প্রতি তাঁর অবস্থান তাঁকে মুসলিম বিশ্বের কণ্ঠস্বর ও আত্মমর্যাদার প্রতীকে পরিণত করেছে। আজ তিনি শুধু ইরানের রাষ্ট্রনায়ক নন; তিনি একটি আদর্শ, একটি বার্তা এবং সাহসের প্রতীক। সেই বার্তা হলো—ঈমান, ন্যায় ও আত্মমর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন হওয়া। এই কারণে কোটি মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে—আমরা খামেনিকে ভালোবাসি।
