গর্ভাবস্থায় চোখের যত্ন না নিলে হতে পারে যে সকল ঝুঁকি!


প্রকাশিত: ০৩:৪৫ ১ অক্টোবর ২০২৫
গর্ভাবস্থায় একজন নারীর শরীরে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে হরমোনের ওঠানামা দেহের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে যেমন প্রভাব ফেলে, তেমনি চোখেও এর বিশেষ প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। অনেক পরিবর্তন প্রসবের পর স্বাভাবিক হয়ে গেলেও কিছু সমস্যা স্থায়ী জটিলতায় রূপ নিতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় চোখের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
গর্ভাবস্থায় শরীরে জলীয় অংশের পরিমাণ বেড়ে গেলে চোখের কর্নিয়াতেও পরিবর্তন আসে। এতে কর্নিয়া মোটা ও বেশি বাঁকানো হয়ে ওঠে, ফলে রিফ্রেকশনে সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত হালকা মায়োপিয়া বা দূরের জিনিস ঝাপসা দেখার প্রবণতা তৈরি হয়। যদিও এই পরিবর্তন প্রসব-পরবর্তী সময়ে নিজে থেকেই সেরে যায়, তবুও প্রয়োজনে সাময়িক চশমা ব্যবহার করা যেতে পারে।
ইস্ট্রোজেন ও প্রোলেক্টিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে চোখের পানি উৎপাদন কমে যায়, যা ড্রাই আই বা শুষ্ক চোখের সমস্যা সৃষ্টি করে। এর ফলে চোখ লাল হওয়া, খচখচ ভাব বা জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আর্টিফিশিয়াল টিয়ার বা চোখের ড্রপ ব্যবহার করা প্রয়োজন।
যাঁদের ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি আগে থেকেই ছিল, তাঁদের জন্য গর্ভাবস্থা বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ। হরমোনের প্রভাবে এ রোগ আরও বেড়ে যেতে পারে এবং চোখে রক্তক্ষরণ হয়ে স্থায়ী অন্ধত্বের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আবার হঠাৎ করে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাও ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ডায়াবেটিস গর্ভাবস্থার আগেই নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত চক্ষুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি বা উচ্চ রক্তচাপজনিত চোখের সমস্যা থাকা নারীরাও ঝুঁকিতে থাকেন। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে অন্ধত্বের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত চোখ পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
এ ছাড়া কর্টিসোল ও কেটাকোলামাইন হরমোনের প্রভাবে রেটিনায় তরল জমে সেন্ট্রাল সেরাস কোরিও রেটিনোপ্যাথি দেখা দিতে পারে। এতে হঠাৎ দৃষ্টির সমস্যা হতে পারে এবং চিকিৎসা না নিলে তা স্থায়ী ক্ষতিতে রূপ নিতে পারে।
গ্লুকোমা রোগীদেরও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। গ্লুকোমা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত কিছু চোখের ড্রপ—যেমন বিটা ব্লকার, প্রোস্টাগ্লেন্ডিন অ্যানালগ ও আলফা-২ এজেন্ট—গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এসব ওষুধ গর্ভস্থ শিশুর হৃদস্পন্দন কমিয়ে দিতে পারে এবং শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, গর্ভাবস্থায় যদি হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা দেয় বা দৃষ্টি কমে যায়, তবে বিষয়টি অবহেলা করা যাবে না। দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
সবশেষে বলা যায়, গর্ভাবস্থায় শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো চোখেও নানাবিধ পরিবর্তন ঘটে। এর বেশিরভাগই সাময়িক হলেও কিছু সমস্যা গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এ সময়ে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা, ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রয়োজনমতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই চোখের সুস্থতা বজায় রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
বিজ্ঞাপন
- নারী এল ক্লাসিকোতে বার্সার তাণ্ডব, ৭ গোলে বিধ্বস্ত রিয়াল
- বিজেপিতে যোগ দিলেন কোয়েল মল্লিক, রাজ্যসভায়ও হলেন প্রার্থী
- ১০ বছরের সম্পর্কের ইতি, আলাদা হচ্ছেন প্রীতম-শেহতাজ
- সীমিত আয়ের মানুষের জন্য মানসম্মত বাসস্থান নিশ্চিতের অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর
- মেসির বিদায়ী ম্যাচে ‘পাঁচটা মনুমেন্টালও ভরে যেত’: স্কালোনি
- গাজার ধ্বংসযজ্ঞের ছবি প্রকাশ, জরুরি সহায়তা চাইলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি
- আকাশেই গতিপথ বদলাতে পারে এআই ক্ষেপণাস্ত্র, পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ৩০ অর্থনীতিতে বাংলাদেশ: ইইউ রাষ্ট্রদূত
- মাল্টার কেজি ৫২০ টাকা কেন, ব্যবসায়ীদের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী
- প্রথম দিনেই ৯৫ কোটি, বক্স অফিসে রেকর্ড গড়ল ‘দৃশ্যম ৩’
- মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে স্বস্তি নেই, বেকায়দায় নিম্নবিত্তরা
- নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম আবার বাড়ল, ১০ শলাকা এখন ৬৫ টাকা
- গানে বাজিমাত BUP-এর, সাউথইস্ট Cultural Fest 3.0-তে প্রথম রানারআপ
- প্রেম, অভিমান আর ‘আকাশের ঠিকানায় চিঠি’: রুদ্র–তসলিমার অজানা গল্প
- বাংলাদেশ দলে কাটছাঁট, আসিয়ান কাপের স্কোয়াড থেকে বাদ ৬ ফুটবলার
- র্যাব বিলুপ্ত, যাত্রা শুরু এসআরবির; বদলাবে পোশাক-লোগো-যানবাহনের রং
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানকে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব রাশিয়ার
- জামানত ছাড়াই ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, পাবেন যেসব তরুণ উদ্যোক্তা
- ‘জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন, তিনি ছিলেন হিন্দু’: ফজলুর রহমানের দাবি, ইতিহাস কী বলে
- মেসির রেকর্ড ছুঁলেন রাফিনিয়া, ৭ গোলের রাতে ইতিহাস গড়ল বার্সেলোনা