রবিবার , ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ | ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রকাশিত: ০২:০৮ ২৯ নভেম্বর ২০২৫
ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়া’র প্রভাবে টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। ইতোমধ্যে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩২ জনে, নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৭৬ জন। দুর্যোগের তীব্রতা বাড়তে থাকায় শনিবার দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সরকার।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্যমতে, প্রবল বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বৃদ্ধিতে শ্রীলঙ্কার বহু অঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, বন্যায় ১৫ হাজারের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং ৭৮ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
জরুরি আইন জারি করার পর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে। অনুরাধাপুরা জেলায় টানা ২৪ ঘণ্টার অভিযানে এক জার্মান পর্যটকসহ ৬৯ বাসযাত্রীকে হেলিকপ্টার ও নৌকা ব্যবহার করে উদ্ধার করা হয়েছে। পানিবন্দী মানুষেরা ছাদে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন, যেখানে উদ্ধারকারী দল রশি ব্যবহার করে তাদের নিরাপদ স্থানে নিচ্ছে।
মধ্যাঞ্চলের বদুল্লা, ক্যান্ডি এবং অন্যান্য পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের মানুষরা জানিয়েছেন, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে এবং তারা গ্রাম থেকে বের হতেও পারছেন না, আবার কেউ ঢুকতেও পারছে না।
বন্যার তীব্রতা বাড়ায় আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। ইতোমধ্যে ভারত দুটি বিমানে ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে এবং কলম্বো সফরে থাকা একটি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ নিজেদের রেশন ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দান করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর শোক প্রকাশ করে আরও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
২০১৭ সালের পর এটিই শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ওই বছর বন্যা ও ভূমিধসে দুই শতাধিক মানুষ প্রাণ হারায়। চলতি শতকের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল ২০০৩ সালে, যখন ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়।
