মঙ্গলবার , ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ | ২৯ পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রকাশিত: ০৪:২২ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
আজ (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব হার্ট দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য— “একটিও স্পন্দন যেন না হারায়”। হৃদ্রোগ প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। তবে দেশের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ মানুষের অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ডায়াবেটিস ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হৃদ্রোগের প্রধান ঝুঁকি তৈরি করছে।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মহসিন আহমদ এনটিভি অনলাইনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও লাইফস্টাইলই মূল সমস্যা। প্রচুর কার্বোহাইড্রেট ও চর্বি খাই, কিন্তু ব্যায়াম বা হাঁটার অভ্যাস নেই। অনিয়মিত ঘুম, কাজের চাপ এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কারণে শরীরে কোলেস্টেরল জমে রক্তনালী ব্লক হয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুললে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত লিপিড বার্ন হয়, ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়। কিন্তু ঘুমের ঘাটতি, মানসিক চাপ ও অনিয়মিত রুটিন হৃদরোগকে আরও ঘনঘন ডেকে আনে।
ডায়াবেটিস প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. মহসিন আহমদ জানান, এটি এখন ‘প্যান্ডেমিক’ আকার ধারণ করেছে। প্রচুর ভাত ও চিনি খাওয়ার ফলে ডায়াবেটিস বাড়ছে, যা সরাসরি হৃদ্রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তরুণদের মধ্যে ধূমপান ও মাদকাসক্তি।
ফাস্টফুড সংস্কৃতি নিয়েও তিনি সতর্ক করেন। খাবার ডেলিভারি নির্ভর এই প্রজন্ম খারাপ কোলেস্টেরলে ভরপুর খাবার খাচ্ছে, যা রক্তনালিতে প্লাক জমিয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের সুপারিশ জানিয়ে তিনি বলেন,
সাদা খাবার যেমন ভাত, চিনি, পনির, দুধের সর কমাতে হবে।
আঁশযুক্ত খাবার, শাকসবজি, ফলমূল ও লাল খাবার খেতে হবে বেশি।
গরুর মাংস সীমিত করে মুরগি ও মাছের প্রতি জোর দিতে হবে।
শারীরিক কার্যক্রমে গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হাঁটা জরুরি। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সময় না পেলে ছোট ছোট হাঁটার সুযোগ তৈরি করতে হবে—যেমন লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার বা অফিসের ছোটখাটো কাজ নিজে করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতন খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম হৃদ্রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকরী উপায়।
