• রবিবার , ৩০ আগস্ট, ২০২৬ | ১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রমুজ সংকটের মাঝেও স্বস্তি: ১৫ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে

রমুজ সংকটের মাঝেও স্বস্তি: ১৫ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০৪ ৮ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ Strait of Hormuz অতিক্রম করে বাংলাদেশগামী ১৫টি পণ্যবাহী জাহাজ Port of Chittagong-এ পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল বলে বন্দর সূত্রে জানা গেছে।

বন্দর কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৫টি জাহাজে মোট প্রায় সাড়ে সাত লাখ টন পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে চারটি জাহাজে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), দুটি জাহাজে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং নয়টি জাহাজে সিমেন্টশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল ক্লিংকার বহন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১২টি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে এবং বাকি তিনটি চলতি সপ্তাহেই পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি Iran-এর ওপর United States ও Israel-এর হামলা এবং তার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা তৈরি হয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ ঝুঁকির মুখে পড়ে, কারণ বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি এই Strait of Hormuz দিয়েই পরিবাহিত হয়।

বাংলাদেশের সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগও এই পথের ওপর নির্ভরশীল। Iraq, Qatar, Kuwait, Bahrain, United Arab Emirates, Saudi Arabia এবং ইরান থেকে বাংলাদেশে পণ্য আনা–নেওয়ার প্রধান সমুদ্রপথ এটি। সাধারণত পারস্য উপসাগর থেকে জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে Gulf of Oman, Arabian Sea, Indian Ocean এবং Bay of Bengal হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়।

বন্দর সূত্রে আরও জানা গেছে, Ras Laffan Port থেকে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামে দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া ‘লুসাইল’ ও ‘আল গালায়েল’ নামে আরও দুটি এলএনজি জাহাজ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে চারটি জাহাজে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে।

এদিকে এলপিজি বহনকারী ‘সেভান’ নামে একটি জাহাজ রোববার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যা Sohar Port থেকে ২২ হাজার টনের বেশি এলপিজি নিয়ে আসছে। এর আগে একই বন্দর থেকে ‘জি ওয়াইএমএম’ নামের আরেকটি জাহাজ প্রায় ১৯ হাজার টন এলপিজি নিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে। এসব গ্যাস আমদানি করেছে Meghna Group of Industries-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি।

এ ছাড়া কুয়েতের Shuaiba Port থেকে পাঁচ হাজার টন মনোইথিলিন গ্লাইকোল (এমইজি) নিয়ে ‘বে ইয়াসু’ নামের একটি জাহাজ গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর ও পাথরসহ প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন কাঁচামালও এসেছে, যা মূলত দেশের সিমেন্ট শিল্পে ব্যবহার করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যার বড় অংশই জ্বালানি। তবে প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে নতুন জাহাজ আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন