• সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৩৩ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর সকালে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের নিয়ে তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি যাত্রা করেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানিয়েছেন, সকাল ৬টা ৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট ছেড়ে যায়।

তাকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইস্তাম্বুল হয়ে নিউইয়র্ক

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রায় আট ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের যাত্রা শেষে ফ্লাইটটির তুরস্কের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে ইস্তাম্বুলে পৌঁছানোর কথা। সেখানে দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিটের ট্রানজিট শেষে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করবে বিমানটি।

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম তাকে স্বাগত জানাবেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্কে অবস্থান করবেন।

২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু কর্মসূচি

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্বাগত প্রাতরাশে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে।

এরপর তিনি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেবেন। একই দিন সন্ধ্যায় রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া সংবর্ধনায়ও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক শুরু হচ্ছে ২২ সেপ্টেম্বর। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার পর ২৮ সেপ্টেম্বর এর সমাপনী দিন নির্ধারিত রয়েছে।

জলবায়ু ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে কর্মসূচি

২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি প্রাতরাশ বৈঠকে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

এরপর ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের যৌথ উদ্যোগে বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা নিয়ে আয়োজিত একটি সভায় তিনি বক্তব্য দেবেন। একই দিন জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সংগত উত্তরণ’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

জাতিসংঘের সূচিতেও ২৩ সেপ্টেম্বর জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সংগত উত্তরণবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক রাখা হয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব আলোচনায় জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

একই দিনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন তিনি। সেখানে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানানোর কথা রয়েছে।

২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ২৪ সেপ্টেম্বর। ওই দিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এটিই হবে তার প্রথম অংশগ্রহণ।

পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন, ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, প্রযুক্তির ন্যায্য ব্যবহার ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও আসতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

একই দিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বের হুমকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক সূচিতেও ২৪ সেপ্টেম্বর এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ আয়োজিত দুটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেবেন। মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং ধাত্রীবিদ্যাবিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই অনুষ্ঠানে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি দক্ষ ও পেশাগতভাবে প্রশিক্ষিত ধাত্রী সেবার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।

এসব আলোচনায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় স্থান পেতে পারে বলে পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।

অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে মেটা, ওয়াল স্ট্রিট এবং কয়েকটি ব্যবসায়ী সংগঠনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করার কর্মসূচি রয়েছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে সুযোগসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিষয় আলোচনায় আসবে বলে পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন।

সফর শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় রাত ১১টায় জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন