• সোমবার , ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৩০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:০২ ২৪ আগস্ট ২০২৬

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে দেশের তৃণমূল স্বাস্থ্য অবকাঠামো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিয়নে ‘হেলথ হাব’ এবং প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে একটি করে ‘হেলথ ওয়েলবিং সেন্টার’ চালু করা হবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে জয়পুরহাট ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এসব তথ্য জানান।

ইউনিয়নে ‘হেলথ হাব’, বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের ‘হেলথ হাব’-এ স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা একই ছাতার নিচে দেওয়া হবে। এসব কেন্দ্রে চিকিৎসক পদায়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা হবে।

স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করবেন। পাশাপাশি নারীদের স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে রোগ জটিল পর্যায়ে যাওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বাড়ানো হচ্ছে উপজেলা হাসপাতালের শয্যা

দেশের উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫১টি করা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

জেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের জন্য জেলা হাসপাতালে ১০টি করে এবং ডিস্ট্রিক্ট হেডকোয়ার্টার হাসপাতালে ৫০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

মেডিকেল কলেজে শিক্ষক নিয়োগ ও আইসিইউ চালুর উদ্যোগ

মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষক সংকট ও আইসিইউ সেবা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এর মাধ্যমে বর্তমানে বন্ধ থাকা আইসিইউগুলো চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নতুন মেডিকেল কলেজগুলোর কার্যক্রমও শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো ও মানোন্নয়নের পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না বলেও সতর্ক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সরকারের এসব স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, সিভিল সার্জন ডা. আল মামুন, জয়পুরহাট ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েলসহ স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন