• রবিবার , ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন করার মূল্য সরকারকে দিতে হবে’: শফিকুর রহমান

‘কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন করার মূল্য সরকারকে দিতে হবে’: শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:৫৭ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬ নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আইনটিকে কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থি দাবি করে তিনি বলেছেন, এ ধরনের আইন করার মূল্য সরকারকে দিতে হবে এবং এটি প্রত্যাহার করতে হবে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান দাবি করেন, সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬ ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আইনটির কারণে দেশের পরিবারগুলোতে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির সরকারের সমালোচনা করে বলেন, সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই—এমন যুক্তি দিয়ে জনগণের রায় উপেক্ষা করা উচিত নয়। তার দাবি, বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় আসার পর তার অনেকগুলো থেকে সরে এসেছে।

সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব কারণেই ১১ দলীয় ঐক্য লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে। সরকার তাদের দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এ ধরনের কর্মসূচির প্রয়োজন হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও তাদের আন্দোলন চলবে। প্রয়োজন হলে আট দফা দাবি এক দফায় রূপ নিতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস, সার, কর্মসংস্থান ও দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াতের আমির। চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। নির্বাচনের আগে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের কৃষি ও নদীগুলোর উন্নয়নের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

তিনি দাবি করেন, ১১ দলীয় ঐক্যের আট দফা কোনো নির্দিষ্ট দলের দাবি নয়; বরং জনগণের বিভিন্ন সমস্যা ও অধিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এসব দাবির মধ্যে রয়েছে।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন।

আট দফা দাবিতে শনিবার সকালে ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়। পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পথসভা শেষে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন