শনিবার , ৩০ আগস্ট, ২০২৫ | ১৪ ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ০৭:১৭ ২৬ আগস্ট ২০২৫
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের নগ্ন ভিডিও ধারণ করতেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি—এমন অভিযোগ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। সোমবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নয়ন এ দাবি করেন। শুনানি শেষে আদালত তৌহিদ আফ্রিদির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নয়ন আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, “তৌহিদ আফ্রিদি একজন ইউটিউবার ও মিডিয়া সন্ত্রাসী। তিনি ইউটিউব ও ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ছাত্রজনতার বিরুদ্ধে প্ররোচনা দিয়েছেন। এমনকি আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রদের কাপড় খুলে ভিডিও ধারণ করে জিম্মি করে রাখতেন।”
সোমবার দুপুরে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খান মো. এরফান আদালতে তৌহিদ আফ্রিদির ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
অন্যদিকে আসামির পক্ষে তার আইনজীবী খায়রুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। তিনি আদালতে বলেন, “বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী নিহত আসাদুল হক পুলিশের গুলিতে নিহত হন। মামলায় তৌহিদ আফ্রিদির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি বাদী নিজেই হলফনামার মাধ্যমে বলেছেন, তথ্যগত ভুলে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।”
খায়রুল ইসলাম আরও দাবি করেন, তৌহিদ আফ্রিদি গুরুতর অসুস্থ। তিনি লিভার ও ক্যান্সার রোগে ভুগছেন। আইন অনুযায়ী অসুস্থ ব্যক্তির রিমান্ড দেওয়া যায় না।
রোববার রাতে সিআইডি তৌহিদ আফ্রিদিকে বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর গুলশান থেকে তার বাবা ও মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মো. আসাদুল হক বাবু। তার বাবা জয়নাল আবেদীন ওই বছরের ৩০ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নম্বর এবং তার বাবা নাসির উদ্দিন সাথী ২২ নম্বর আসামি।
বিজ্ঞাপন