ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, বিক্ষোভে নিহত ৫৩৮

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, বিক্ষোভে নিহত ৫৩৮

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:২৮ ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১১ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এত বেশি বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর বিষয়ে সাংবাদিকরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, ইরান কি সীমা লঙ্ঘন করেছে? এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা ট্রাম্প জবাবে বলেন, “দেখে মনে হচ্ছে, তারা (ইরান) সেটাই শুরু করেছে।”

ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সামরিক বাহিনীও সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। “আমরা খুব কঠিন কয়েকটি বিকল্প বিবেচনায় রাখছি। সময় এলে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব,”—বলেন তিনি। তার এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে, ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। রোববার ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভুল হিসাব-নিকাশ’ না করার পরামর্শ দিয়ে জানায়, ওয়াশিংটন হামলা চালালে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হবে। এতে করে পরিস্থিতি আরও সংঘাতমুখী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ইরানে হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এইচআরএএনএ-এর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, নিহতদের বেশির ভাগই বিক্ষোভকারী। তবে রয়টার্স এ সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। উল্লেখ্য, ইরান সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার বিষয়টি—গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে।

এরই মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘দাঙ্গাবাজদের’ সমাজ অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে প্রতিবাদ জনগণের অধিকার। শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “জনগণের এটা বিশ্বাস করা উচিত যে আমরা (সরকার) ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”

২০২২ সালের পর ইরান বর্তমানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে পড়েছে। মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও আর্থিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয়। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ইতোমধ্যে দেশটির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান দাবি করে রাজপথে অবস্থান নিয়েছে।

চলমান এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানে ‘হস্তক্ষেপের’ হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানি নেতৃত্বকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। গত শনিবার ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের ‘সহায়তা দিতে প্রস্তুত’, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/