নড়াইল সদর হাসপাতালে চলছে দালাল পেয়ারীর রাজত্ব ,কতৃপক্ষ নীরব ভূমিকায়

নড়াইল সদর হাসপাতালে চলছে দালাল পেয়ারীর রাজত্ব ,কতৃপক্ষ নীরব ভূমিকায়

শাকিল আহমেদ: নড়াইল প্রতিনিধি
শাকিল আহমেদ: নড়াইল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬:০১ ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

নড়াইল সদর হাসপাতালের শীর্ষ দালাল হিসেবে দাপিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে পেয়ারি বেগম নামে এক দালালের বিরুদ্ধে, তার বাড়ি নড়াইল পৌরসভার বিজয়পুর গ্রামে।

ইমার্জেন্সি,পুরুষ ওয়ার্ড, গাইনী ওয়ার্ড, সহ হাসপাতালের সব গুরুত্বপূর্ন যায়গায়  রয়েছে তার অবাধ বিচরণ। নড়াইল  সদর  হাসপাতাল থেকে প্রকাশ্যে রুগী ভাগিয়ে আনলেও পেয়ারী বেগমের ব্যপারে হাসপাতাল  কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে  রয়েছে   নীরব ভুমিকায় থাকার অভিযোগ।

ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কথিত "হাসপাতাল মার্কেটিং জব" পোস্টে চাকরি  নিয়ে  সদর হাসপাতাল থেকে নিজ প্রতিষ্ঠানে  রুগী ভাগিয়ে আনতে  পারলেই পেয়ারী বেগমের পোয়া বারো,রুগীর টেস্ট  প্রতি পান মোটা অংকের কমিশন।

অভিযোগ রয়েছে তার এই অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করছে  হাসপাতালের আউট সোর্সিং কাজে নিয়োজিত থাকা কিছু কর্মি ও হাসপাতালের কিছু ষ্ট্যাফ। পেয়ারীর হাতে রুগী তুলে দিতে পারলে বিনিময়ে তাদের পকেটেও যাচ্ছে কমিশনের টাকা।

কিছুদিন পূর্বে সদর হাসপাতাল চত্ত্বরে সাংবাদিকদের জেরার মুখে অভিযুক্ত  পেয়ারী বেগম  নিজের প্রকৃত নাম  পরিচয় গোপন করে নিজেকে সাদিয়া বলে পরিচয় দেন এবং হাসপাতালে দালালি করেন না বলে জানান। হাসপাতাল চত্ত্বরে থেকে ধারন করা পেয়ারী বেগমের সে ভিডিও চিত্রটি  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হলে সেটি ভাইরাল হয়।

নড়াইল সদর হাসপাতাল চত্ত্বরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাবেক এক মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,পেয়ারী আমাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করতো।
তার অপকর্মের ফিরিস্তি বলে শেষ করা যাবে না, রুগীদের সাথে খারাপ আচরণ,কমিশন বেশি নেওয়া, অন্যান্য স্ট্যাফদের সাথে খারাপ আচরণ, রুগীদের মালামাল চুরি সহ তার বিরুদ্ধে রয়েছে আরো নানান অভিযোগ।এসব কারনে প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে কয়েকবার বহিষ্কার করা হয়েছে, তবুও সে ঠিক হয়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পেয়ারী বেগমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি নড়াইল সদর হাসপাতালে দালালী করেন না বলে জানান, তার বিরুদ্ধে   মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে,  তিনি একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরি করেন। সাংবাদিকদের কাছে নিজের প্রকৃত নাম  গোপন করার কারন জানতে চাইলে বলেন, একজনের একাধিক নাম থাকতে পারে, তবে তার জাতীয় পরিচয় পত্রে  সঠিক নাম পেয়ারী বেগম।

আধুনিক নড়াইল সদর হাসপাতালে দালাল নির্মুলের জন্য বারবার অভিযান পরিচালিত হলেও অদৃশ্য ক্ষমতার বলে পেয়ারী বেগম থেকে গেছেন ধরা ছোঁয়ার  বাইরে।যথাযথ কতৃপক্ষের কাছে দালাল  পেয়ারী বেগমের  দৌরাত্ম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী  জানিয়েছে স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/