• শনিবার , ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ৯ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মহাসড়কে অবৈধ পাথর ক্রাসিং মেশিন, চরম জনদুর্ভোগে বাংলাবান্ধাবাসী

মহাসড়কে অবৈধ পাথর ক্রাসিং মেশিন, চরম জনদুর্ভোগে বাংলাবান্ধাবাসী

খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি
খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩:৪৩ ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া-বাংলাবান্ধা মহাসড়কটি বর্তমানে জনসাধারণের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। বাংলাবান্ধা বিজিবি ক্যাম্প থেকে স্থলবন্দরের শূন্য রেখা পর্যন্ত সড়কের দুপাশে শতাধিক অবৈধ পাথর ক্রাসিং মেশিন বসানো হয়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে দেশি-বিদেশি যাত্রী, স্থানীয় মানুষ ও পরিবহন চরম দুর্ভোগে পড়ছে। ক্রাসিং মেশিনগুলো থেকে ধোঁয়া, ধূলাবালি ও প্রচণ্ড শব্দ সৃষ্টির ফলে যাত্রীদের স্বাভাবিক যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

তেঁতুলিয়া-বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর সড়কের এই অংশে লোড-আনলোড, নেটিং ও ক্রাসিংয়ের কাজ করা ব্যবসায়ীরা তাদের পাথর ক্রাসিং মেশিন মহাসড়কের ওপরই বসিয়ে রেখেছেন। এতে সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা ধূলাবালির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন এখানে গড়ে দুইশ থেকে আড়াইশ জন যাত্রী পারাপার হন। কিন্তু জিরো পয়েন্ট থেকে বাংলাবান্ধা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যাত্রাপথটি পাথর ক্রাসিং মেশিন ও ধূলার কারণে অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে।

এদিকে, পাথর ক্রাসিং মেশিনে কয়েক হাজার শ্রমিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়া কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় মাস্ক, হেলমেট বা অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া দীর্ঘ সময় পাথর নেটিং, ক্রাসিং ও ডেম্পিংয়ের কাজের কারণে তারা নানা রোগ ও শারীরিক অসুবিধায় আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেক শ্রমিক স্থানীয় কেমিস্ট ও পল্লী চিকিৎসকের কাছ থেকে ক্ষতিকারক ব্যথানাশক ওষুধ কিনে সাময়িক স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

তেতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজ শাহিন খসরু জানান, শ্রমিকদের নিরাপদভাবে কাজ করার জন্য জল ছিটিয়ে পাথর ক্রাসিংয়ের ধূলা কমানোর অনুরোধ করা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা যদি এই নির্দেশনা না মানেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে মহাসড়কের যাত্রী ও শ্রমিক উভয়ের জন্য স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/