• শনিবার , ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ৯ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রথম কর্মদিবসেই অনিয়মের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি হিজলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

প্রথম কর্মদিবসেই অনিয়মের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি হিজলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

শাকিল আহমেদ: নড়াইল প্রতিনিধি
শাকিল আহমেদ: নড়াইল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩:২২ ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নড়াইল সদর উপজেলার হিজলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্কুল ছুটি দিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার সময় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট হলেও বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার আগেই বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষকরা বাড়ি চলে গেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

নতুন সরকারের প্রথম কর্মদিবসেই এমন ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও বিস্ময় দেখা দিয়েছে। বিকেল ৪টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা লিটু জানান, তিনি বিকেল ৪টার আগেই স্কুলের সামনে অবস্থান করছিলেন, কিন্তু তখন কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীকে দেখতে পাননি। আরেক বাসিন্দা সঞ্জিত বিশ্বাস বলেন, প্রায়ই নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি দেখার কেউ নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অসিত দাস নামে এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, শিক্ষকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে কমে গেছে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, শৃঙ্খলার অভাব ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের এক সিনিয়র শিক্ষক স্থানীয় হওয়ায় অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। ফলে অভিভাবক ও এলাকাবাসী কার্যকরভাবে প্রতিবাদ জানাতে পারছেন না।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক স্বপ্না সেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সেদিন তিনি একটি সভায় ছিলেন। সভা শেষে বিদ্যালয়ে না গিয়ে বাড়ি চলে যান। তবে তিনি দাবি করেন, বিকেল পৌনে চারটার দিকে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তিনি শিক্ষকদের পক্ষে সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করেন।

মুলিয়া ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এটিও মোঃ জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগেও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে রুটিন মেইনটেন্যান্স বাবদ বরাদ্দ অর্থ উত্তোলন করে কাজ না করার অভিযোগ উঠেছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হলে সীমিত আকারে কিছু সংস্কার কাজ করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বদলি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তারা মনে করেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগ ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার মান উন্নত হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/