রবিবার , ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১৯ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রকাশিত: ০৮:১১ ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
দেশের মসজিদগুলোর জনবল কাঠামো শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অবশেষে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন দেশের সরকারি ও মডেল মসজিদে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা।
সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি গেজেটে (Official Government Gazette) তাদের বিভিন্ন পদকে জাতীয় পে স্কেলের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি এলো।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিচের মসজিদগুলোতে কর্মরত জনবল এই সুবিধার আওতায় আসছেন—
| আওতাভুক্ত মসজিদ |
|---|
| বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ |
| দেশের সরকারি পরিচালিত মসজিদ |
| নবনির্মিত ৫৬০টি মডেল মসজিদ |
এসব মসজিদে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা সরাসরি সরকারি তহবিল অথবা ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত বেতন পাবেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে মসজিদগুলোর জনবল কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং ধর্মীয় দায়িত্ব পালনকারীদের পেশাগত মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
তবে বেসরকারি বা স্থানীয়ভাবে পরিচালিত মসজিদগুলোর ক্ষেত্রে বেতন প্রদানের দায়িত্ব আগের মতোই সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির ওপর থাকবে। এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র সরকার পরিচালিত ও আওতাভুক্ত মডেল মসজিদগুলোর জন্য কার্যকর হবে।
সরকারি গেজেট অনুযায়ী মসজিদের জনবলকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর আওতায় নিচের গ্রেডগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—
| পদবী | নির্ধারিত গ্রেড |
|---|---|
| সিনিয়র পেশ ইমাম | ৫ম গ্রেড |
| পেশ ইমাম | ৬ষ্ঠ গ্রেড |
| ইমাম | ৯ম গ্রেড |
| প্রধান মুয়াজ্জিন | ১০ম গ্রেড |
| সাধারণ মুয়াজ্জিন | ১১তম গ্রেড |
| প্রধান খাদেম | ১৫তম গ্রেড |
| সাধারণ খাদেম | ১৬তম গ্রেড |
| অন্যান্য কর্মী (নিরাপত্তা প্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী) | ২০তম গ্রেড |
জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতনের পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিনরা প্রজাতন্ত্রের সরকারি কর্মচারী হিসেবে পাবেন—
| ভাতার ধরন |
|---|
| বাড়ি ভাড়া ভাতা |
| চিকিৎসা ভাতা |
| অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা |
ফলে মাসিক মোট (Gross) বেতন আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ধর্মীয় অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই সিদ্ধান্তকে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকেই মনে করছেন, এটি ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
