• রবিবার , ৩০ আগস্ট, ২০২৬ | ১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গভীর রাতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা—দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় নৌবাহিনীর সদস্যসহ প্রাণ গেল ৩ জনের

গভীর রাতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা—দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় নৌবাহিনীর সদস্যসহ প্রাণ গেল ৩ জনের

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:১৬ ৯ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় গভীর রাতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নৌবাহিনীর এক সদস্যসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত আরও আটজন যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে মীরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভার ধুমঘাট ফরেস্ট অফিস এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাঠবোঝাই ট্রাকের পেছনে দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাসটি সজোরে ধাক্কা দেয়।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মীরসরাই উপজেলার মসজিদিয়া এলাকার নুর আলমের ছেলে নাফিজ আহমেদ অয়ন (১৮), যিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য ছিলেন। অপর নিহতরা হলেন চট্টগ্রাম নগরের চাঁদগাঁও থানার মো. হেলালের মেয়ে ছাবিতুন নাহার (২৫) এবং গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানার মৃত নয়া ব্যাপারীর ছেলে মিন্টু মিয়া (৪৫)।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, রাতের আঁধারে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে একটি গাছবোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। ঠিক সেই সময় একই লেনে সেন্টমার্টিন ট্রাভেলসের একটি ডাবল ডেকার স্লিপার বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটির পেছনে সজোরে আঘাত করে। সংঘর্ষের ফলে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য যাত্রীদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বোরহান উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাক উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে গেছেন বলে জানান তিনি। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা মহাসড়কে যানবাহন দাঁড়িয়ে রাখার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড বন্ধে আরও কঠোর নজরদারি ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন