ফুলবাড়ীতে ২৮ আঙুল নিয়ে কন্যাশিশুর জন্ম


প্রকাশিত: ০১:১১ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে হাত ও পায়ে মোট ২৮টি আঙুল নিয়ে জন্ম নিয়েছে এক কন্যাশিশু। চিকিৎসাবিজ্ঞানে জন্মগত এই শারীরিক বৈশিষ্ট্য ‘পলিড্যাক্টিলি’ নামে পরিচিত। শিশুটির অতিরিক্ত আঙুলের পাশাপাশি ঠোঁট ও তালুতেও জন্মগত ত্রুটি থাকায় চিকিৎসা নিয়ে উদ্বিগ্ন তার পরিবার।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের দাদপুর মালিপাড়া গ্রামের আসাদুল ইসলাম আরিফ ও লিজা আক্তার দম্পতির ঘরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর শিশুটির জন্ম হয়।
ফুলবাড়ী সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশুটির দুই হাত ও দুই পায়ে সাতটি করে মোট ২৮টি আঙুল ছিল। প্রতিটি আঙুলেই নখ ছিল বলে পরিবার জানিয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, জন্মের দুই দিন পর শিশুটির বাম হাতের একটি অতিরিক্ত আঙুল ঝরে পড়ে।
নবজাতককে দেখতে বাড়িতে মানুষের ভিড়
শিশুটির জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। নবজাতককে একনজর দেখতে প্রতিদিন তাদের বাড়িতে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে মানুষের কৌতূহলের বিপরীতে শিশুটির ভবিষ্যৎ চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন বাবা-মা।
শিশুটির বাবা আসাদুল ইসলাম আরিফ পেশায় ভ্যানচালক। সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি মেয়ের চিকিৎসার খরচ কীভাবে বহন করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
এটি তাদের প্রথম সন্তান।
শিশুটির ঠোঁট ও তালুতে জন্মগত ত্রুটি
শিশুটির অতিরিক্ত আঙুলের পাশাপাশি ঠোঁট ও তালুতেও জন্মগত ত্রুটি রয়েছে। এ কারণে ভবিষ্যতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।
লিজা আক্তারের অস্ত্রোপচার সম্পন্নকারী চিকিৎসক ডা. এম এ এন নূরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, অতিরিক্ত আঙুলের কারণে বর্তমানে শিশুটির বড় ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা যাচ্ছে না।
তবে ঠোঁট ও তালুর জন্মগত ত্রুটি সংশোধনের জন্য পরবর্তীতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
‘পলিড্যাক্টিলি’ কী?
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এস কে সাদেক আলী শিশুটির অতিরিক্ত আঙুল থাকার অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘পলিড্যাক্টিলি’ (Polydactyly) বলে উল্লেখ করেছেন।
পলিড্যাক্টিলি হলো এমন একটি জন্মগত শারীরিক বৈশিষ্ট্য, যেখানে একটি শিশুর হাত বা পায়ে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত আঙুল থাকতে পারে।
চিকিৎসকের মতে, শিশুটির শরীরে অন্য কোনো জন্মগত জটিলতা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো উচিত।
শিশুটির বাবা জানিয়েছেন, ভ্যান চালিয়ে পাওয়া সীমিত আয়েই পরিবারের খরচ চালাতে হয়। মেয়ের ঠোঁট ও তালুর চিকিৎসায় বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হলে সেই ব্যয় বহন করা তার জন্য কঠিন হবে।
তারপরও মেয়েকে সুস্থ করে তুলতে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
শিশুটির দাদা আমজাদ হোসেন ও দাদি আয়েশা আক্তারও নাতনির ভবিষ্যৎ ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - দেশজুড়ে
- ফুলবাড়ীতে ২৮ আঙুল নিয়ে কন্যাশিশুর জন্ম
- মোদির জন্মদিনে মুম্বাইয়ের ২০ স্কুল সংস্কারের উদ্যোগ আলিয়া-রণবীরের
- লং মার্চকে অযৌক্তিক বলেও সহযোগিতার আশ্বাস রাশেদ খানের
- সৌদি রাজধানী রিয়াদে বিস্ফোরণ, জারি হয়েছিল বিমান হামলার সতর্কতা
- বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভানে নজর রিয়াল-বার্সার
- বাংলাদেশের কূটনীতি ও রাজনীতিতে আলোচিত নাম সাকিব আলী
- জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন তারেক রহমান
- উত্তম কুমারের সঙ্গে তুলনা শুনে যা বললেন দেব, প্রশংসায় ভাসছে নেটদুনিয়া
- কবি সুফিয়া কামাল: যে নারী কলম হাতে বদলে দিয়েছিলেন একটি সময়
- ‘জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন, তিনি ছিলেন হিন্দু’: ফজলুর রহমানের দাবি, ইতিহাস কী বলে
- রাজ্জাক দেওয়ান স্মরণে গাইবেন বগা তালেবসহ ১৫ শিল্পী
- মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির
- ডা. তাসনিম জারা: শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও রাজনীতি
- অকালে হারানো বাংলা চলচ্চিত্রের চিরসবুজ মহানায়ক সালমান শাহ
- পাকিস্তানের হাসপাতালে এসি বিস্ফোরণ, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু
- ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর ফ্ল্যাটে রাফসান ও সুনেহরা, থাকছে নতুন চমক
- ব্রাজিলের সঙ্গে খেললেই বদলাবে না বাংলাদেশের ফুটবল, বললেন আমিনুল
- দেশজুড়ে আরও পাঁচ দিন টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস
- শরীফুলের বোলিংয়ে মুগ্ধ অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক
- বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইউনিয়নে হবে ‘হেলথ হাব’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী



