শুক্রবার , ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১০ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রকাশিত: ০৪:৫২ ২৯ অক্টোবর ২০২৫
চট্টগ্রামের সাগরিকার স্টেডিয়ামে আজ সন্ধ্যা ৬টায় মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে টিকে থাকার লড়াই এটি। সিরিজের প্রথম ম্যাচে দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ের কারণে পরাজিত হয়েছে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন দল। তাই আজকের ম্যাচে জিততেই হবে—নইলে সিরিজ হার নিশ্চিত।
প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটাররা যেন এক অচেনা রূপে দেখা দিয়েছিলেন। পাওয়ারপ্লেতেই ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় দল। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি টাইগাররা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে পেসার তানজিম হাসান সাকিবও খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেন, টপ অর্ডারের ব্যর্থতাই হারের মূল কারণ। তাঁর ভাষায়, “উইকেটগুলো হারিয়েছি পাওয়ারপ্লেতে। তারা যদি সেট হয়ে আউট হতো, তাহলে অন্যরকম দৃশ্য দেখতাম। কিন্তু বেশির ভাগ ব্যাটারই সেট হওয়ার আগেই আউট হয়ে গেছে।”
একই সুরে কথা বলেছেন অধিনায়ক লিটন দাসও। বিশেষ করে মিডল অর্ডারের দায়িত্বহীন শট খেলাকে তিনি সরাসরি সমালোচনা করেছেন। ৪ বলে মাত্র ১ রান করে বোল্ড হয়ে যাওয়া শামীম হোসেন পাটোয়ারির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা পাওয়ারপ্লেতে অনেক বেশি উইকেট হারিয়ে ফেলেছি। আমি শামীমের ব্যাটিং নিয়ে হতাশ। তাকে এটা নিয়ে ভাবতে হবে। শুধু উপভোগ করে ব্যাটিং করলে হবে না, দায়িত্বও নিতে হবে।”
শেষ দিকে শিশির পড়ায় ব্যাটিং কিছুটা সহজ হলেও বাংলাদেশ তা কাজে লাগাতে পারেনি। তানজিম সাকিব বলেন, “শেষের দিকে বল ব্যাটে ভালো আসছিল। যদি একজন সেট ব্যাটার থাকত, ম্যাচটা অন্যরকম হতো।”
এমন ব্যর্থতার পর আজকের ম্যাচটি বাংলাদেশ দলের জন্য ‘করো বা মরো’ পরিস্থিতি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি জেতে, তাহলে সিরিজ তাদের দখলে চলে যাবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জিতলে সিরিজের ভাগ্য নির্ধারিত হবে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে।
মিরপুরের ধীরগতির উইকেট থেকে ভিন্ন চরিত্রের চট্টগ্রামের উইকেট সাধারণত ব্যাটারদের সহায়ক। এখানকার উইকেটে বড় রান সম্ভব, যদি ব্যাটাররা দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস গড়তে পারে। বিশেষ করে লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয় ও শামীম হোসেনদের আজ দায়িত্ব নিতে হবে টপ অর্ডারে।
দলের কোচিং স্টাফরাও ব্যাটারদের মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করছেন। সিরিজে টিকে থাকার লড়াই শুধু ব্যাটিং নয়, মানসিক দৃঢ়তারও পরীক্ষা হবে আজ।
প্রথম ম্যাচে জয় পেলেও আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না ক্যারিবিয়ানরা। গতকাল তারা অপশনাল প্র্যাকটিসে অংশ নিয়ে নিজেদের আরও ঝালিয়ে নিয়েছেন। স্পিন আক্রমণের বিপক্ষে যেভাবে ইতিবাচক ব্যাটিং করেছেন, তা বাংলাদেশের বোলারদের জন্য বড় সতর্কবার্তা।
তাদের ব্যাটাররা এখন আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত, অন্যদিকে বাংলাদেশের টপ অর্ডার এখন চাপে। এই চাপ সামলানোই আজকের বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশের জন্য আজকের ম্যাচে তিনটি জায়গায় উন্নতি জরুরি—
১. ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীলতা: টপ অর্ডারের ব্যাটারদের শুরুটা কাজে লাগাতে হবে এবং সেট হয়ে ইনিংস লম্বা করতে হবে।
২. ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ: প্রথম ম্যাচে বেশ কিছু ভুল ফিল্ডিং ও ক্যাচ মিস হয়েছে, যা আজ আর চলবে না।
৩. বোলিংয়ে শৃঙ্খলা: বিশেষ করে ডেথ ওভারে পরিকল্পনামাফিক বোলিং করতে হবে।
যদি এই তিন দিক সামলাতে পারে, তাহলে আজকের ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা প্রবল। না হলে ক্যারিবিয়ানদের দাপটে সিরিজ হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।
