• বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ | ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জ-১ আসনে কাবির মিয়ার প্রত্যাবর্তনে রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ

গোপালগঞ্জ-১ আসনে কাবির মিয়ার প্রত্যাবর্তনে রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৩৬ ২১ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ-১ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের চমক সৃষ্টি হয়েছে। ঋণখেলাপির অভিযোগে বাতিল হওয়া গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী, বর্তমানে কারাবন্দি কাবির মিয়ার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আদালতের এই আদেশে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সব আইনি জটিলতা দূর হওয়ায় কারাগার থেকেই তিনি ভোটের লড়াইয়ে নামছেন, যা এ আসনের নির্বাচনি সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের আগের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে কাবির মিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও তাকে নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেন। এর মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জ-১ আসনে তার প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হলো এবং ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠল।

এর আগে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা কাবির মিয়াকে ঋণখেলাপি উল্লেখ করে তার প্রার্থিতা বাতিল করেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করলেও দীর্ঘ শুনানি শেষে কমিশন রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রেখে তার আপিল খারিজ করে দেয়। এরপরই কাবির মিয়া হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

হাইকোর্টে শুনানিকালে কাবির মিয়ার পক্ষে আইনজীবীরা যুক্তি তুলে ধরেন যে, সংশ্লিষ্ট ঋণসংক্রান্ত বিষয়টি ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী তিনি আর ঋণখেলাপি নন। উভয়পক্ষের যুক্তি শুনে আদালত তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন, যা তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে নতুন করে উজ্জ্বল করে তুলেছে।

কাবির মিয়া মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় একটি পরিচিত নাম। এলাকাবাসীর মতে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে গোপালগঞ্জ-১ আসনে তার একটি শক্ত ভোটব্যাংক রয়েছে।

রাজনৈতিক জীবনে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়েই তার পথচলা। একসময় তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খানের সঙ্গে বিরোধের জেরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপরও বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে এলাকায় তার প্রভাব অটুট থাকে। বর্তমানে তিনি বরইতলা–মুকসুদপুর–কাশিয়ানী আঞ্চলিক বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাবির মিয়া গোপালগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খানের বিপক্ষে লড়ে তিনি প্রায় এক লক্ষ ভোট অর্জন করেন, যা তাকে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাবির মিয়ার মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় গোপালগঞ্জ-১ আসনের ভোটের চিত্র নতুন করে সাজানো হচ্ছে। কারাবন্দি অবস্থায় তার প্রার্থিতা নির্বাচনে ভিন্নমাত্রার উত্তেজনা তৈরি করেছে এবং এই আসনের লড়াইকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে।

প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাচেষ্টার মামলার আসামি হিসেবে কাবির মিয়া বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। গত বছরের ১৭ এপ্রিল ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে বিমানবন্দর সিভিল অ্যাভিয়েশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তবুও কারাগার থেকেই তার এই রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন গোপালগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/