রবিবার , ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১৯ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রকাশিত: ০২:৩০ ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
ইসলামে বিবাহকে কেবল সামাজিক চুক্তি নয়, বরং একটি পবিত্র ইবাদত ও দায়িত্বপূর্ণ বন্ধন হিসেবে দেখা হয়। দাম্পত্য জীবনের মাধ্যমে যেমন পারস্পরিক ভালোবাসা ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়, তেমনি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথও সুগম হয়। ইসলামী শরিয়াতে একজন পুরুষকে একাধিক স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে; তবে এই অনুমতি শর্তহীন নয়। বিশেষ করে প্রথম স্ত্রী জীবিত ও বৈবাহিক সম্পর্কে থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণের ক্ষেত্রে ইসলাম অত্যন্ত কঠোর ন্যায়নীতি ও দায়িত্ববোধ আরোপ করেছে।
পবিত্র কুরআনে একাধিক বিবাহের অনুমতির সঙ্গে সঙ্গে ন্যায়বিচারের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
“তোমরা যদি আশঙ্কা কর যে, ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে একটিই বিয়ে করো।” (সুরা আন-নিসা: ৩)।
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, একাধিক স্ত্রী গ্রহণের মূল শর্ত হলো—সব স্ত্রীর প্রতি ন্যায় ও সমতা বজায় রাখা। ন্যায়বিচারের আশঙ্কা থাকলে একাধিক বিয়ের অনুমতি কার্যত সীমিত হয়ে যায়।
প্রথম স্ত্রী রেখে দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ তখনই বৈধ হবে, যখন স্বামী নিশ্চিতভাবে সব স্ত্রীর অধিকার আদায়ে সক্ষম হবেন। এর মধ্যে রয়েছে ভরণপোষণ, বাসস্থান, পোশাক, সময় বণ্টন এবং সামাজিক সম্মান। শুধু আর্থিক সক্ষমতাই নয়, মানসিক ভারসাম্য ও দায়িত্ববোধও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্ত্রীদের মধ্যে অবহেলা, বৈষম্য বা জুলুম ইসলামে মারাত্মক গোনাহ হিসেবে বিবেচিত।
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই বিষয়ে কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তির দুই স্ত্রী রয়েছে এবং সে তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করে না, কিয়ামতের দিন সে এক পাশ ঝুঁকে পড়া অবস্থায় উপস্থিত হবে।” (বুখারি ও মুসলিম)। এই হাদিস স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়—ন্যায়বিচার ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ কেবল অনুচিতই নয়, বরং আখিরাতের জন্য ভয়াবহ পরিণতির কারণ হতে পারে।
দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতির বিষয়টি নিয়েও সমাজে নানা আলোচনা রয়েছে। শরিয়তের দৃষ্টিতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক শর্ত না হলেও, তার অনুভূতি, সম্মান ও অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বাস্তবিক অর্থে ন্যায়বিচারের অন্যতম দিকই হলো—প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে দায়িত্বশীল, মানবিক ও নৈতিক আচরণ করা।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, ইসলামে দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ অনুমোদিত হলেও তা সাধারণ কোনো সিদ্ধান্ত নয়। এটি তখনই বৈধ ও গ্রহণযোগ্য হবে, যখন স্বামী—
এই শর্তগুলো পূরণ না হলে একাধিক বিয়ে করা ইসলামের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হয়ে যায়। তাই একজন মুসলিম পুরুষের জন্য বিবাহ মানে শুধু অধিকার ভোগ নয়, বরং ন্যায়, দায়িত্ব ও তাকওয়ার সঙ্গে একটি পবিত্র আমানত রক্ষা করা।
