কানাডায় বৈধতা হারানোর ঝুঁকিতে প্রায় ১০ লাখ ভারতীয়


প্রকাশিত: ০৩:৫৯ ৪ জানুয়ারী ২০২৬
কানাডায় বসবাসরত প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় নাগরিক আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেশটিতে তাদের বৈধ বসবাসের অনুমতি বা আইনি মর্যাদা হারানোর চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন। মূলত ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, নতুন ভিসা প্রাপ্তি জটিল হওয়া এবং স্থায়ী বসবাসের (পার্মানেন্ট রেসিডেন্স—পিআর) সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসায় এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এটি কানাডার সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় অভিবাসন সংকটে রূপ নিতে পারে।
মিসিসাগাভিত্তিক অভিবাসন বিশেষজ্ঞ কানওয়ার সিরাহ কানাডার অভিবাসন দপ্তর আইআরসিসি (IRCC) থেকে সংগৃহীত তথ্যের বরাতে জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ ৫৩ হাজার ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের মধ্যে আরও প্রায় ৯ লাখ ২৭ হাজার ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে রয়েছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ কানাডায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ অনিয়মিত বা নথিপত্রহীন অবস্থায় পড়ে যেতে পারেন, যার অন্তত অর্ধেকই ভারতীয় নাগরিক।
কানাডা সরকারের সাম্প্রতিক কঠোর অভিবাসন নীতি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। অস্থায়ী কর্মী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়মকানুন কঠিন করার পাশাপাশি রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম আবেদনের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ফলে যাদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাদের সামনে বৈধভাবে দেশটিতে থাকার বিকল্প পথগুলো ক্রমেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কানওয়ার সিরাহ সতর্ক করে বলেন, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকেই প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার মানুষের পারমিটের মেয়াদ শেষ হবে, যা কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ ও স্থবিরতা সৃষ্টি করবে।
ইতোমধ্যেই এই সংকটের সামাজিক প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। বৃহত্তর টরন্টো এলাকা, বিশেষ করে ব্র্যাম্পটন ও ক্যালেডনের বনাঞ্চলে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের অস্থায়ী তাঁবু খাটিয়ে বসবাস করতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের তথ্যমতে, আইনি মর্যাদা হারানো অনেক ভারতীয় নাগরিক এখন নামমাত্র মজুরিতে নগদ টাকায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে বৈধ হওয়ার আশায় ভুয়া বিয়েসহ নানা অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত চক্রও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই মানবিক ও আইনি সংকটের প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিভিন্ন অধিকার রক্ষা সংগঠন। ‘নওজোয়ান সাপোর্ট নেটওয়ার্ক’-এর মতো কর্মীবান্ধব সংগঠনগুলো জানুয়ারি মাস থেকেই বড় পরিসরে বিক্ষোভ কর্মসূচির পরিকল্পনা করছে। তাদের দাবি, যারা বছরের পর বছর কানাডার অর্থনীতিতে শ্রম দিচ্ছেন, কর দিচ্ছেন এবং সমাজে অবদান রাখছেন, তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দিতে হবে।
‘কাজের জন্য যোগ্য হলে, থাকার জন্যও যোগ্য’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে তারা কানাডা সরকারের অভিবাসন নীতি সংস্কারের জন্য চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
- প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার সিফাতের জামিন নামঞ্জুর
- ‘তিন নাম্বার জন ডান’, পরীমণির কোলে নবজাতক, রহস্য কী?
- সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তুলছেন গ্রাহকরা, জরুরি প্রয়োজনে মিলছে আগাম সুবিধা
- গোলের পর ইয়ামালের ‘৩০৪’ উদযাপন, রহস্য জানালেন শৈশবের বন্ধু
- দুই বছরে ইসরায়েল ছেড়েছেন ১,৩৭০ চিকিৎসক
- গানে বাজিমাত BUP-এর, সাউথইস্ট Cultural Fest 3.0-তে প্রথম রানারআপ
- ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের সম্মানী ও উৎসব ভাতা দেবে সরকার
- ইসলামী ব্যাংকে এস আলম-সংশ্লিষ্ট ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার ফ্রিজের নির্দেশ হাইকোর্টের
- দিলারা জামানের বাড়ি দখলের খবর ছড়াল, আসল ঘটনা জানালেন অভিনেত্রী
- প্রধানমন্ত্রীকে গালিগালাজের অভিযোগে গ্রেপ্তার সিফাতকে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের
- বিপিএল এ বছর নাও হতে পারে: তামিম ইকবাল
- নাসিরুদ্দিন শাহকে ‘শিয়াল’ বলে কঙ্গনা রানাওয়াতের কটাক্ষ
- রাজ্জাক দেওয়ান স্মরণে গাইবেন বগা তালেবসহ ১৫ শিল্পী
- রুহুল কবীর রিজভী কে? শিক্ষা, রাজনৈতিক জীবন ও বর্তমান দায়িত্ব
- মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির
- প্রতিপক্ষের বাড়িতে অস্ত্র রেখে পুলিশকে ফোন, নিজেই ফাঁসলেন যুবক
- গণভোটের রায় প্রতিষ্ঠিত হলে অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হতেন: জামায়াত
- কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৩২, জরুরি অবস্থা জারি
- রোনালদো এখন আর্জেন্টিনার জামাই!
- টেস্টোস্টেরন পরীক্ষায় কি লিঙ্গ নির্ধারণ সম্ভব? জানুন বিজ্ঞান কী বলে