• সোমবার , ৩১ আগস্ট, ২০২৬ | ১৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্টদের সেমিনারের অনুমতি দেয়নি পুলিশ

দিল্লিতে আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্টদের সেমিনারের অনুমতি দেয়নি পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:১৫ ৩১ আগস্ট ২০২৬

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বক্তাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা সভার অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। আয়োজকদের জানানো হয়েছে, কিছু ‘বিতর্কের’ কারণে অনুষ্ঠানটির অনুমতি দেওয়া হয়নি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত নয়াদিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) মিলনায়তনে ওই সেমিনার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্নে আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লি পুলিশের কাছে আবেদন করেছিলেন আয়োজকেরা। তবে শেষ পর্যন্ত সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি।

যৌথভাবে সেমিনারের আয়োজন

আন্তর্জাতিক আলোচনা সভাটির আয়োজন করে নয়াদিল্লির ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব (এফসিসি)। বেলজিয়ামভিত্তিক সংগঠন হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন-এর সঙ্গে যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

সেমিনারের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়ালগ টু আ পার্টনারশিপ’। অনুষ্ঠানে ইউরোপ ও এশিয়ার পারস্পরিক সম্পর্ক, অংশীদারত্ব ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

অনুমতি না দেওয়ার কারণ ‘কিছু বিতর্ক’

অনুষ্ঠান বাতিলের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে দেওয়া হয়নি। তবে আয়োজকদের আবেদনপত্রে হাতে লেখা নোটে অনুমতি না দেওয়ার কারণ হিসেবে ‘কিছু বিতর্ক’ উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেমিনারে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কয়েকজন ব্যক্তির অংশগ্রহণের কথা থাকায় অনুষ্ঠানটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই দিল্লি পুলিশ অনুমতি না দিয়ে থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বক্তাদের উপস্থিতিকেই সরাসরি অনুমতি না দেওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

আগের ঘটনার পর নতুন করে আলোচনা

গত ৫ আগস্ট একই ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিতে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ওই ঘটনার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়। পাশাপাশি এ ধরনের ‘অবাঞ্ছিত প্ররোচনা’ বন্ধের নিশ্চয়তাও চাওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের দাবিও নতুন করে জোরালোভাবে জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরও পিছিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারা আমন্ত্রিত ছিলেন

শনিবারের আলোচনায় উপস্থিত থাকার কথা ছিল বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদের। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশি-আমেরিকান বিজ্ঞানী নুরান নবীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

অন্যান্য আমন্ত্রিত বক্তাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি, রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী রবি আলম, ইউনাইটেড ডিপ্লোমেটিক কাউন্সিলের সভাপতি আসিফ ইকবাল এবং হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম জিলানি।

চেক প্রজাতন্ত্রের রাজনীতিবিদ ওন্দ্রেজ দোস্তাল এবং জার্মান রাজনীতিবিদ পিটার ফারেনহোল্টজেরও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

সেমিনারের একটি অংশে প্রশ্নোত্তর পর্ব রাখার পরিকল্পনা ছিল। সেখানে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ধরনের বিরূপ বা বিতর্কিত মন্তব্য হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষাপট

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কোনো বিতর্ক তৈরি হোক, তা দিল্লি চাইছে না। সে কারণেই শনিবারের আলোচনা সভার অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রসঙ্গে জানিয়েছিল, ওই মঞ্চ থেকে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই এবং সেসব বক্তব্য ভারত সরকারের মনোভাবও নয়।

আয়োজকের বক্তব্য

ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবের সভাপতি ওয়াইল আওয়াদ অনুষ্ঠানের অনুমতি না পাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, অনুষ্ঠানটি ছিল অংশীদারত্ব ও উন্নয়নবিষয়ক একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা। দিল্লি পুলিশ কেন অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়নি, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

এদিকে দিল্লি পুলিশের সিদ্ধান্তের ফলে নির্ধারিত সময়ের আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়নি।

বিজ্ঞাপন