রবিবার , ৩১ আগস্ট, ২০২৫ | ১৬ ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ০৭:২০ ৩১ আগস্ট ২০২৫
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে পাঁচটি প্যানেলের মধ্যে। তবে কোনো প্যানেলই এককভাবে সব পদে জয়ী হতে পারবে না বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
দীর্ঘ ৩৩ বছর পর আগামী ১১ সেপ্টেম্বর জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জাকসুর ২৫টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৯ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ১০ জন এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন।
শিক্ষার্থীদের মতে এবারের নির্বাচনে সংগঠনের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি বড় ভূমিকা রাখবে। নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহানা রিথী বলেন, “এটা আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। সবাই সবাইকে চেনে। ব্যক্তিগত পরিচিতি ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পর্কই জয়–পরাজয়ের মূল নির্ধারক হবে।”
ইতিমধ্যে সাতটি প্যানেল ঘোষণা করা হলেও শিক্ষার্থীরা মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখছেন পাঁচটিতে। এগুলো হলো—ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেল, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ–সমর্থিত ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’, আবদুর রশিদ জিতুর নেতৃত্বাধীন ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’, বাম সংগঠনগুলোর ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ এবং ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’।
এর বাইরে বাম সংগঠনগুলোর আরেকটি আংশিক প্যানেল ‘সংশপ্তক পর্ষদ’ এবং জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের অংশবিশেষের নেতৃত্বে গঠিত ‘স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ’ও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
জাকসুর শীর্ষ দুই পদে অন্য কোনো প্যানেল নারী প্রার্থী না দিলেও ছাত্রদল জিএস পদে তানজিলা হোসাইনকে মনোনয়ন দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নারী ভোটার টানতে এ কৌশল নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বামপন্থী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেলে ১১ জন নারী ও ৭ জন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রার্থী রাখা হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ও আহত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন এবারও প্রার্থী হয়েছেন। আবদুর রশিদ জিতুর নেতৃত্বাধীন ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’ প্যানেলে আন্দোলনে আলোচিত শিক্ষার্থী শাকিল আলী জিএস পদে লড়ছেন।
এ ছাড়া ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেলেও জুলাই আন্দোলনে আহত কয়েকজনকে রাখা হয়েছে। ফলে এই আন্দোলনের প্রভাব নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “ছাত্র সংসদ নির্বাচন ছাত্ররাজনীতিতে সহাবস্থান ও স্থিতিশীলতা আনবে। এর ধারাবাহিকতা দীর্ঘ মেয়াদে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে, যা জাতীয় রাজনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
বিজ্ঞাপন