সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪ক বিলুপ্ত করতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন


প্রকাশিত: ১১:১৪ ১১ অক্টোবর ২০২৫
অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শন সংক্রান্ত সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪(ক) বিলুপ্তির প্রস্তাব বিবেচনা করছে। কমিশন জানিয়েছে, এ প্রস্তাবটি আগামী ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত চেয়ে চিঠি দিয়েছে কমিশন।
গতকাল বৃহস্পতিবার কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের স্বাক্ষরে রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, “রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সঙ্গে জুলাই সনদ ২০২৫ প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নবিষয়ক বৈঠক শেষ হয়েছে। এ পর্যায়ে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪(ক)-এর অধীন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা বিলুপ্তির প্রস্তাবটি জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি কমিশন বিবেচনা করছে।”
চিঠিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের লিখিত মতামত আগামী শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৪টার মধ্যে কমিশনের ই-মেইল বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তথ্যের জন্য কমিশনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগেরও সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান জানান, তারা কমিশনের চিঠি পেয়েছেন, তবে এখনো আনুষ্ঠানিক মতামত দেননি। তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছি। সংবিধানের যেকোনো পরিবর্তন নিয়ে মতামত দেওয়ার আগে দলীয়ভাবে আলোচনা প্রয়োজন।”
২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে শাসনতন্ত্রের প্রথম ভাগে “জাতির পিতার প্রতিকৃতি” শিরোনামে একটি নতুন অনুচ্ছেদ—৪(ক)—যুক্ত করা হয়। সেই অনুচ্ছেদে বলা হয়, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয় এবং সকল সরকারি ও আধা সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রধান ও শাখা কার্যালয়, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনসমূহে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করিতে হইবে।” এই ধারার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি প্রদর্শনকে সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়।
ঐকমত্য কমিশনের এই প্রস্তাব প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। অনেকেই একে “সংবিধানের চেতনাবিরোধী” হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন—রাষ্ট্রের প্রতীক ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক না রেখে ঐচ্ছিক করা উচিত। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি হবে বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধানের অন্যতম বড় পরিবর্তন।
ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত সংগ্রহের পর ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হবে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক সংস্কারের মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতীক, ইতিহাস ও মতাদর্শ নিয়ে নতুন এক বিতর্কের সূচনা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - জাতীয়
- অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল
- এলপিজি ব্যবসায়ীদের দুই দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার, খোলা থাকবে দোকান
- ৬০ বছর বয়সে বাবা হতে চান সালমান খান, জানালেন মনের ইচ্ছা
- দেশের টাকা লুটে বিদেশে বিলাসী জীবন কাটাচ্ছেন ফ্যাসিবাদের দোসররা: রিজভী
- ভারতের জেন জি আন্দোলনে বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা: ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা
- দেশের আট বিভাগে হচ্ছে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- কাজের সুযোগ দিতে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব, বিস্ফোরক অভিযোগ অভিনেত্রী নীতি টেলরের
- বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে চোট, মাঠ ছাড়লেন হাশমতউল্লাহ
- ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা, সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক
- ভারতের আন্দোলনের পেছনে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ দিলীপ ঘোষের
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি আজ পৌঁছাচ্ছে বাংলাদেশে
- পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের দাবি, চাওয়া হয়েছে ৪ লাখ ডলার
- শেষ ম্যাচে গোল-অ্যাসিস্ট, সতীর্থদের ভালোবাসায় বিদায় মেসির
- জাতীয় দলের শিবির ছাড়ায় ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রোনালদো
- ৮ মাস পর চালু, দুই দিনের মাথায় ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানা
- মেসির বিদায়ে রোনালদোর আবেগঘন বার্তা, জানালেন ‘পূর্ণ শ্রদ্ধা’
- অসংখ্য ডিসেম্বর আসবে-যাবে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন
- সাভারের বনগাঁওয়ে তিন দিনব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রম শুরু
- নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম আবার বাড়ল, ১০ শলাকা এখন ৬৫ টাকা
- সালাহউদ্দিনের সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন হাসনাতের, চাইলেন স্বচ্ছ হিসাব




