নুরুল হকের ওপর হামলায় বিএনপি, জামায়াত ও ছাত্রদলের নিন্দা

নুরুল হকের ওপর হামলায় বিএনপি, জামায়াত ও ছাত্রদলের নিন্দা

মোরনিউজ ডেস্ক
মোরনিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:৫৮ ৩০ আগস্ট ২০২৫

রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণ অধিকার পরিষদের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রদল।

কী ঘটেছিল কাকরাইলে

শুক্রবার সন্ধ্যায় জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণ অধিকার পরিষদের একটি মিছিল অতিক্রম করার সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিপেটা চালায়। এতে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকসহ একাধিক কর্মী আহত হন।

আহত নুরুল হককে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং নাকের হাড় ভেঙে গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের পর তাঁর জ্ঞান ফিরেছে, তবে ৪৮ ঘণ্টা না পেরোনো পর্যন্ত তিনি আশঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না। এজন্য ইতিমধ্যে তাঁর চিকিৎসায় একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

বিএনপির প্রতিক্রিয়া

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন—
“গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডকে বিএনপি সমর্থন করে না। শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর হামলা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।”
তিনি নুরুল হক ও গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং নুরুল হকের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি করেন। একই সঙ্গে তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

জামায়াতের নিন্দা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন—“ফ্যাসিবাদের পতনের পরও এ ধরনের হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও অনভিপ্রেত। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ প্রত্যাশা করি। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রক্রিয়ায় এ ধরনের ঘটনা ফ্যাসিবাদের চিত্রকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।” তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান।

ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়া

শুক্রবার রাতে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জানায়— “ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের অগ্রভাগের নেতাদের ওপর এমন নৃশংস হামলা অভাবনীয়। গণ–অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

আইএসপিআরের বক্তব্য

এ ঘটনায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, গণ অধিকার পরিষদের কিছু নেতা–কর্মী মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালান এবং রাতে মশাল মিছিল বের করে সহিংসতা বাড়ানোর চেষ্টা করেন। এতে সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্য আহত হন। জননিরাপত্তা রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়।

সার্বিক পরিস্থিতি

ঘটনার পর থেকে রাজধানীতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নুরুল হকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে গণ অধিকার পরিষদ, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এ হামলা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে মনে করছেন, সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তে সহিংসতা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য ভালো নয়।

 

বিজ্ঞাপন