• মঙ্গলবার , ২১ এপ্রিল, ২০২৬ | ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতীয়দের জন্য যুক্তরাজ্যের ভিসা পাওয়ার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই: কিয়ার স্টারমার

ভারতীয়দের জন্য যুক্তরাজ্যের ভিসা পাওয়ার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই: কিয়ার স্টারমার

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:০২ ৮ অক্টোবর ২০২৫

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে দুই দিনের সফরে ভারতে পৌঁছেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। বুধবার (৮ অক্টোবর) সকালে তিনি মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সফরের শুরুতেই তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য যুক্তরাজ্যের ভিসা নীতিতে কোনো শিথিলতা আনা হবে না।

স্টারমার বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিশাল সুযোগ রয়েছে। তবে ভিসা নীতিতে কোনো পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই।” তিনি জোর দিয়ে জানান, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক সমৃদ্ধি—ভিসা নয়।

বর্তমান লেবার সরকার ইতিমধ্যে দেশটির অভিবাসন নীতি কঠোর করার পথে এগোচ্ছে। গত সপ্তাহে দলীয় সম্মেলনে বিদেশিদের স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে নতুন ও কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, যুক্তরাজ্যে অভিবাসীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা।

স্টারমার তাঁর সফরে শতাধিক সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যেখানে রয়েছেন ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধি। এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য যুক্তরাজ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দেশটির ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুজ্জীবিত করা।

গত জুলাইয়ে ভারতের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাজ্য। এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় পোশাক ও গয়না সহজে যুক্তরাজ্যে আমদানি করা যাবে, আবার যুক্তরাজ্যের গাড়ি ও হুইস্কি ভারতে কম মূল্যে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এছাড়া চুক্তির অংশ হিসেবে স্বল্পমেয়াদি ভিসায় যুক্তরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া ভারতীয় নাগরিকদের জন্য তিন বছরের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয়ের ছাড় থাকবে।

তবে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই বাণিজ্যচুক্তির সঙ্গে অভিবাসন বা ভিসা নীতির কোনো সম্পর্ক নেই। ভারতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্টারমার বলেন, “এই চুক্তি ভিসা বিষয়ক নয়। আমাদের লক্ষ্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, ভিসা বাড়ানো নয়।”

সাংবাদিকরা তাঁকে আরও প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষ কর্মী ভিসা (এইচ-১বি) আবেদনে ফি আরোপের পর যুক্তরাজ্য কি নিজস্ব ভিসা নীতিতে পরিবর্তন আনবে? জবাবে স্টারমার বলেন, “আমরা বিশ্বের সেরা মেধাবীদের যুক্তরাজ্যে স্বাগত জানাতে চাই, তবে কোনো নির্দিষ্ট দেশের জন্য আলাদা নীতি করা হবে না।”

দুই দিনের এই সফরে স্টারমারের ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি সহযোগিতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়া সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্টারমার আরও জানান, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে কোনো ধরনের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাননি এবং ভবিষ্যতেও পাঠানোর কোনো ইচ্ছা নেই। রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে ভারতের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাশিয়ার তেল বহনকারী ছদ্মবেশী জাহাজগুলোর দিকে যুক্তরাজ্যের নজর রয়েছে।”

ভারত সফরে কিয়ার স্টারমারের এই অবস্থান স্পষ্ট করেছে যে, যুক্তরাজ্যের বর্তমান লেবার সরকার অভিবাসন নীতিতে নমনীয়তা নয়, বরং কঠোরতা বজায় রাখতেই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অন্যদিকে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার মাধ্যমে ভারত-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর প্রত্যাশা করছে দুই দেশই।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/