• সোমবার , ২৭ জুলাই, ২০২৬ | ১২ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেয়ারবাজারে অর্থ আত্মসাৎ: সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের তদন্ত প্রতিবেদন জমা পিছাল

শেয়ারবাজারে অর্থ আত্মসাৎ: সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের তদন্ত প্রতিবেদন জমা পিছাল

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:১০ ২৭ জুলাই ২০২৬

শেয়ারবাজারে অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবার পেছানো হয়েছে। আজ সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শাহাজাহান কবির প্রতিবেদন জমার নতুন দিন ধার্য করেন আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর। তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্ধারিত সময়ে তদন্ত কাজ শেষ করতে না পারায় আদালত এই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম। উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ মে মামলাটি দায়েরের পর সাকিবের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।

দুদকের দায়ের করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে নিজেদের বিও (BO) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে শেয়ারবাজারে নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়াতেন। এর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করে পরবর্তীতে সেই শেয়ার বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হতো। প্রাথমিক তদন্তে এই চক্রটির বিরুদ্ধে প্রায় ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে, যা দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের কারসাজি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

মামলার অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই কারসাজির মূল পরিকল্পনাকারী আবুল খায়ের হিরুর মাধ্যমে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স ও সোনালী পেপারের মতো কোম্পানিতে মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন সাকিব আল হাসান। এই অনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে সাকিব ক্যাপিটাল গেইনের নামে ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া, মামলার প্রধান আসামিদের ব্যাংক হিসাবে শত শত কোটি টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের আইনি জালে তদন্তাধীন রয়েছে।

চক্রটির মাধ্যমে সংঘটিত এই দুর্নীতি ও শেয়ারবাজার কারসাজির মামলায় সাকিব আল হাসান ছাড়াও একাধিক কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি অভিযুক্ত হয়েছেন। আসামিদের তালিকায় রয়েছেন সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের, তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির এবং তানভির নিজাম। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিরপেক্ষ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে।

বিজ্ঞাপন