• মঙ্গলবার , ১৮ আগস্ট, ২০২৬ | ৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আখ চাষে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য, খুলছে বাড়তি আয়ের পথ

আখ চাষে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য, খুলছে বাড়তি আয়ের পথ

খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি
খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪:২০ ১৮ আগস্ট ২০২৬

পঞ্চগড়ে বোম্বাই আখ চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাই ও পোকামাকড়ের তুলনামূলক কম আক্রমণ এবং বাজারে ভালো দাম থাকায় চলতি মৌসুমে আখের ফলন ও বিক্রি নিয়ে সন্তুষ্ট কৃষকরা।

বিশেষ করে চিবিয়ে খাওয়ার উপযোগী বোম্বাই আখের চাহিদা স্থানীয় বাজারে বেশ ভালো। পাইকাররা কৃষকের জমি থেকেই আখ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন এলাকায়। এতে উৎপাদন শেষ হওয়ার আগেই অনেক কৃষকের হাতে নগদ অর্থ আসছে।

বোম্বাই আখে ভালো বাজারমূল্য

বোম্বাই আখ অনেক এলাকায় মুম্বাই বা গেন্ডারি আখ নামেও পরিচিত। রসালো ও সুস্বাদু হওয়ায় এটি মূলত চিবিয়ে খাওয়ার জন্য জনপ্রিয়। বাজারে এ জাতের আখের চাহিদাও রয়েছে।

পঞ্চগড়ের বিভিন্ন হাট-বাজারে বর্তমানে বোম্বাই আখ বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি আখের দাম পড়ছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা। অন্যদিকে মেশিনে আখ মাড়িয়ে প্রতি গ্লাস আখের রস বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০ টাকায়।

আখের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় একদিকে যেমন কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন, অন্যদিকে ক্রেতারাও তুলনামূলক স্বস্তিতে আখ কিনতে পারছেন।

কম খরচে লাভের আশায় কৃষক

পঞ্চগড়ে ঈশরদী, ধলেশরী, মিশ্রীদানা ও স্থানীয় বিভিন্ন জাতের আখ চাষ হয়ে থাকে। তুলনামূলক কম খরচ ও কম পরিশ্রমে ভালো আয় পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় অনেক কৃষক আখ চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

এখন অনেক কৃষক জমি থেকে আখ কেটে বাজারে বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার পাইকাররা সরাসরি জমি থেকে আখ কিনে নেওয়ায় কৃষকদের পরিবহন ও বাজারজাতকরণের ঝামেলাও কমছে।

২০ শতক জমিতে আখ চাষ করে ৩০ হাজার টাকা বিক্রি

তেঁতুলিয়ার মাগুরা গ্রামের কৃষক শাহা আলী আখ চাষ করে লাভবান হয়েছেন। ১৩ সদস্যের পরিবার নিয়ে বসবাস করা শাহা আলীর নিজের কোনো আবাদযোগ্য জমি নেই। অন্যের জমি বন্ধক নিয়ে তিনি ২০ শতক জমিতে বোম্বাই আখ চাষ করেছেন।

কৃষক শাহা আলী জানান, ওই জমিতে উৎপাদিত আখের একটি বড় অংশ গত ১০ থেকে ১৫ দিনে চৌরাস্তা বাজারে বিক্রি করে তিনি প্রায় ৩০ হাজার টাকা পেয়েছেন। এতে তিনি বেশ সন্তুষ্ট।

তার মতো অন্য কৃষকরাও মনে করছেন, আখ চাষে সরকারি সহায়তা বাড়ানো হলে ভবিষ্যতে আরও বেশি জমিতে এ ফসলের আবাদ করা সম্ভব হবে।

চিনিকল থাকলে আখ চাষ আরও বাড়ার সম্ভাবনা

পঞ্চগড় জেলা ও আশপাশের এলাকায় বর্তমানে আখ প্রক্রিয়াজাতকরণের বড় কোনো চিনিকল কার্যকর নেই। ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আখের বড় অংশ চিবিয়ে খাওয়া এবং ছোট পরিসরে গুড় তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে এলাকায় একটি চিনিকল স্থাপন করা গেলে আখের বাজার আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। এতে আখের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি কৃষকরাও বেশি জমিতে আখ চাষে উৎসাহিত হবেন।

২০২০ সাল থেকে পঞ্চগড় চিনিকলের কার্যক্রম স্থগিত

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়ে বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে আখ চাষের নির্দিষ্ট কোনো একক লক্ষ্যমাত্রা নেই। এর অন্যতম কারণ, ২০২০ সাল থেকে পঞ্চগড় চিনিকলের উৎপাদন ও আখ মাড়াই কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।

তবে আখ চাষে কৃষকদের আগ্রহ ধরে রাখতে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।

কৃষি বিভাগের সহযোগিতার আশ্বাস

পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল মতিন বলেন, আখের চাষ ও ফলন বাড়াতে কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

কৃষকদের মতে, উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক চাষপদ্ধতি, প্রশিক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সরকারি সহায়তা আরও বাড়ানো গেলে পঞ্চগড়ে আখ চাষের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

সব মিলিয়ে অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো বাজারদরের কারণে পঞ্চগড়ে বোম্বাই আখ এখন কৃষকদের জন্য সম্ভাবনাময় একটি অর্থকরী ফসলে পরিণত হচ্ছে। সঠিক সহায়তা ও বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এই ফসল স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞাপন