• রবিবার , ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১৯ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একই পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন

একই পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:০৬ ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

বিলিয়ন ডলারের অনলাইন প্রতারণা ও সংঘবদ্ধ অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনার দায়ে একই পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হত্যা, অবৈধ আটক ও জালিয়াতিসহ একাধিক গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সম্প্রতি এই রায় কার্যকর করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা চিনহুয়া জানায়, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এই ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে রায় কার্যকর করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজন রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন। তবে মামলাটি চীনের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম পিপলস কোর্টে গেলে সেখানেও নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখা হয়।

এই ১১ জন উত্তর মিয়ানমারের কুখ্যাত অপরাধচক্র হিসেবে পরিচিত তথাকথিত ‘চার পরিবারের’ একটি—মিং পরিবারের সদস্য। অভিযোগ রয়েছে, এই পরিবার শত শত অপরাধকেন্দ্র পরিচালনা করত, যেখানে অনলাইন জালিয়াতি, মানবপাচার, পতিতাবৃত্তি ও মাদক উৎপাদনের মতো ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হতো। এসব অপরাধের মাধ্যমে তারা বহুজাতিক পর্যায়ে বিলিয়ন ডলারের অবৈধ অর্থের সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিং পরিবারের বহু সদস্য স্থানীয় প্রশাসন এবং মিয়ানমারের সামরিক জান্তা-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। এতে করে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড কার্যত অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। পরিবারের প্রধান মিং শুয়েচাং-এর নেতৃত্বে মিয়ানমার-চীন সীমান্তের কোকাং অঞ্চলে ‘ক্রাউচিং টাইগার ভিলা’ নামে একটি কুখ্যাত অপরাধকেন্দ্র পরিচালিত হতো।

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানায়, এক সময় এই অপরাধচক্রে প্রায় ১০ হাজার মানুষ কাজ করত। তাদের অনেককেই জোরপূর্বক ধরে এনে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হতো। কোকাং অঞ্চলের রাজধানী লাউক্কাইং দীর্ঘদিন ধরেই বহুজাতিক অনলাইন প্রতারণা শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল, যেখানে পাচার হওয়া শ্রমিকদের দিয়ে অত্যাধুনিক কৌশলে বিশ্বজুড়ে মানুষকে প্রতারণা করা হতো।

দীর্ঘদিন ধরে পাচার হওয়া শ্রমিকদের স্বজনদের অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২০২৩ সালে চীন এসব অপরাধকেন্দ্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করে। ওই বছরের নভেম্বরে মিং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং তাদের ধরিয়ে দিতে ১৪ হাজার থেকে ৭০ হাজার ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তীতে গোষ্ঠীর প্রধান মিং শুয়েচাং আটক অবস্থায় আত্মহত্যা করেন। উল্লেখ্য, তিনি একসময় মিয়ানমারের একটি অঙ্গরাজ্যের সংসদ সদস্যও ছিলেন। যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ছিলেন তার ছেলে মিং গুওপিং এবং নাতনি মিং ঝেনঝেন। চীনের এই কঠোর পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণা দমনে একটি শক্ত বার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/