একই পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন


প্রকাশিত: ১০:০৬ ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
বিলিয়ন ডলারের অনলাইন প্রতারণা ও সংঘবদ্ধ অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনার দায়ে একই পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হত্যা, অবৈধ আটক ও জালিয়াতিসহ একাধিক গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সম্প্রতি এই রায় কার্যকর করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা চিনহুয়া জানায়, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এই ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে রায় কার্যকর করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজন রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন। তবে মামলাটি চীনের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম পিপলস কোর্টে গেলে সেখানেও নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখা হয়।
এই ১১ জন উত্তর মিয়ানমারের কুখ্যাত অপরাধচক্র হিসেবে পরিচিত তথাকথিত ‘চার পরিবারের’ একটি—মিং পরিবারের সদস্য। অভিযোগ রয়েছে, এই পরিবার শত শত অপরাধকেন্দ্র পরিচালনা করত, যেখানে অনলাইন জালিয়াতি, মানবপাচার, পতিতাবৃত্তি ও মাদক উৎপাদনের মতো ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হতো। এসব অপরাধের মাধ্যমে তারা বহুজাতিক পর্যায়ে বিলিয়ন ডলারের অবৈধ অর্থের সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিং পরিবারের বহু সদস্য স্থানীয় প্রশাসন এবং মিয়ানমারের সামরিক জান্তা-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। এতে করে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড কার্যত অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। পরিবারের প্রধান মিং শুয়েচাং-এর নেতৃত্বে মিয়ানমার-চীন সীমান্তের কোকাং অঞ্চলে ‘ক্রাউচিং টাইগার ভিলা’ নামে একটি কুখ্যাত অপরাধকেন্দ্র পরিচালিত হতো।
চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানায়, এক সময় এই অপরাধচক্রে প্রায় ১০ হাজার মানুষ কাজ করত। তাদের অনেককেই জোরপূর্বক ধরে এনে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হতো। কোকাং অঞ্চলের রাজধানী লাউক্কাইং দীর্ঘদিন ধরেই বহুজাতিক অনলাইন প্রতারণা শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল, যেখানে পাচার হওয়া শ্রমিকদের দিয়ে অত্যাধুনিক কৌশলে বিশ্বজুড়ে মানুষকে প্রতারণা করা হতো।
দীর্ঘদিন ধরে পাচার হওয়া শ্রমিকদের স্বজনদের অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২০২৩ সালে চীন এসব অপরাধকেন্দ্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করে। ওই বছরের নভেম্বরে মিং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং তাদের ধরিয়ে দিতে ১৪ হাজার থেকে ৭০ হাজার ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তীতে গোষ্ঠীর প্রধান মিং শুয়েচাং আটক অবস্থায় আত্মহত্যা করেন। উল্লেখ্য, তিনি একসময় মিয়ানমারের একটি অঙ্গরাজ্যের সংসদ সদস্যও ছিলেন। যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ছিলেন তার ছেলে মিং গুওপিং এবং নাতনি মিং ঝেনঝেন। চীনের এই কঠোর পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণা দমনে একটি শক্ত বার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - আন্তর্জাতিক
- গণভোটের রায় মানছে না সরকার, স্বৈরশাসন চাপানোর অভিযোগ জামায়াত আমিরের
- ভারতের বিপক্ষে জয়ের পোস্ট, ট্রোলের মুখে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
- সৌদির তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন হামলা, ভূপাতিতের দাবি
- তুরাগ নদে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মরদেহ, মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন
- SEO Expert নিচ্ছে Nebula IT Bangladesh
- মন্দিরে পূজা দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্কে সারা আলি খান
- Marketing Officer নিয়োগ দিচ্ছে Monir Neuro Spine Surgical Mart
- আকর্ষণীয় বেতনে HAJ Corporation-এ নিয়োগ, থাকছে যেসব সুযোগ-সুবিধা
- অবশেষে নিবন্ধন পাচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, এক এনআইডিতে সর্বোচ্চ ৫টি
- মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কোচিং প্যানেলে বড় পরিবর্তন, বাদ মালিঙ্গাসহ ৩ জন
- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি আজ পৌঁছাচ্ছে বাংলাদেশে
- পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের দাবি, চাওয়া হয়েছে ৪ লাখ ডলার
- ৮ মাস পর চালু, দুই দিনের মাথায় ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানা
- সালাহউদ্দিনের সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন হাসনাতের, চাইলেন স্বচ্ছ হিসাব
- অসংখ্য ডিসেম্বর আসবে-যাবে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন
- জাতীয় দলের শিবির ছাড়ায় ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রোনালদো
- শেষ ম্যাচে গোল-অ্যাসিস্ট, সতীর্থদের ভালোবাসায় বিদায় মেসির
- মেসির বিদায়ে রোনালদোর আবেগঘন বার্তা, জানালেন ‘পূর্ণ শ্রদ্ধা’
- রিয়াদ বিমানবন্দরে তৃতীয় দফা হামলার দাবি হুথিদের, ক্ষতিগ্রস্ত বিমান
- সাভারের বনগাঁওয়ে তিন দিনব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রম শুরু




