রবিবার , ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১৯ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রকাশিত: ০৯:০৮ ২ জানুয়ারী ২০২৬
ঢাকায় সৌজন্য সাক্ষাৎ ও করমর্দনের মাত্র দু’দিনের মধ্যেই পাকিস্তানকে ‘খারাপ প্রতিবেশী’ আখ্যা দিয়ে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় এসে তিনি পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও করমর্দন করেছিলেন।
ঢাকা সফর শেষে দেশে ফিরে ভারতের মাদ্রাজে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি)-এর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তৃতায় জয়শঙ্কর পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করে কঠোর ভাষায় কথা বলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর প্রসঙ্গ টেনেই তিনি এই মন্তব্য করেন।
জয়শঙ্কর বলেন, “আমাদের কী করা উচিত বা কী করা উচিত নয়—তা কেউ আমাদের বলে দিতে পারে না। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের একটি খারাপ প্রতিবেশী আছে। যদি কোনো দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে, ধারাবাহিকভাবে এবং অনুতপ্ত না হয়ে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যেতে চায়, তাহলে নিজেদের জনগণকে রক্ষার অধিকার আমাদের আছে।”
তিনি আরও বলেন, এই অধিকার কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা ভারত নিজেই ঠিক করবে। আত্মরক্ষার জন্য যা প্রয়োজন, ভারত তাই করবে বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
১৯৬০ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে জয়শঙ্কর বলেন, পহেলগাম হামলার পর চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন। “দশকের পর দশক ধরে যদি সন্ত্রাসবাদ চলতে থাকে, তাহলে ভালো প্রতিবেশীত্ব টিকে থাকতে পারে না এবং তার সুবিধাও পাওয়া যায় না,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “একদিকে আপনি বলতে পারেন না—‘আমার সঙ্গে পানি ভাগ করে নিন’, আর অন্যদিকে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাবেন।”
ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর বিষয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত ‘বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেশী’ দ্বারা পরিবেষ্টিত। কোনো প্রতিবেশী যদি সহযোগিতাপূর্ণ হয় বা ক্ষতিকর না হয়, তাহলে ভারতের স্বাভাবিক প্রবণতা হলো সহানুভূতিশীল হওয়া এবং সহযোগিতা করা।
উল্লেখ্য, এর আগেও এস জয়শঙ্কর মন্তব্য করেছিলেন যে, ভারতের বেশিরভাগ সমস্যার মূল উৎস পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।