• রবিবার , ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১৯ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ: প্রথমবার নিজের সামরিক সক্ষমতাকেই নিয়ে উদ্বিগ্ন ইসরায়েল

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ: প্রথমবার নিজের সামরিক সক্ষমতাকেই নিয়ে উদ্বিগ্ন ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১৯ ২ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ওপর কতটা নির্ভর করা যাবে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহল। টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে আরেক দফা সংঘাত হলে ইসরায়েল আগের তুলনায় ‘কম প্রস্তুত’ অবস্থায় পড়তে পারে।

উদ্বেগের মূল কারণ হলো ইরানের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি, যা গত বছরের জুনে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় এখন আরও বড় আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ সংঘাতও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার প্রকৃত মাত্রা তুলে ধরতে পারেনি, তবে এতে ইসরায়েলের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তেহরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার পুনর্গঠন ও আধুনিকীকরণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, আর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে দীর্ঘ সময়ের সমস্যার মুখোমুখি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে ক্ষেপণাস্ত্র সংঘর্ষের ধরনকেই মৌলিকভাবে বদলে দিতে পারে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানে দ্বিতীয় দফা হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। হোয়াইট হাউজে বৈঠকে নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনার তথ্য দেন।

এক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, আলোচনা হয়েছে ২০২৬ সালে ইরানের ওপর নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়েও। গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যদি ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন করে, যুক্তরাষ্ট্র তা আবারও ধ্বংস করবে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েল সতর্কবার্তা দিয়েছে যে ইরান ও হিজবুল্লাহ তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা উন্নয়ন করছে। জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় ‘সম্মানের পরিবেশে’ আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।

গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীরা নিহত হন এবং কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়।

এছাড়া, ট্রাম্প গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে এগিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন এবং হামাস নিরস্ত্র না হলে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি অভিযানে গাজায় ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ভূখণ্ড পুনর্গঠনে আনুমানিক ৭০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/