পুলিশের পোশাক যুগে যুগে যেসব কারণে পরিবর্তিত হয়েছে


প্রকাশিত: ০৪:১১ ২১ আগস্ট ২০২৪
পুলিশ—তামাম দুনিয়ার মানুষ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে এই শব্দটির সঙ্গে। ইতিহাস সমৃদ্ধ এই বাহিনী যুগে যুগে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিচ্ছে, তাদের নিয়ে আছে নানা সমালোচনাও। পুলিশের প্রতি মানুষের রাগ-ক্ষোভ, দুঃখ-আহাজারি, ঘৃণা যেমন আছে একদিকে; তেমনি মুদ্রার উল্টো পিঠে গর্ব, ভালোবাসা ও সম্মানও আছে।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ৭ দিন পুলিশকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তাদের মনে যেমন ভয়-আতঙ্ক ছিল, তেমনি কাজে ফিরতে বিভিন্ন ধরনের দাবিও উত্থাপন করেন তারা। এরই মধ্যে পোশাক, লোগো পরিবর্তনসহ অন্তর্বর্তী সরকার থেকে নানা আশ্বাস পেয়ে কাজে ফিরেছে পুলিশ। তবে এখন পুলিশের যেসব বিষয়টি সবচেয়ে আলোচনায়, তাহলো—কেমন হবে পুলিশের পোশাক?
পুলিশ
খাকি রং দিয়ে শুরু
এক সময় বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকের রং ছিল খাকি। এই রঙের পোশাকের ইতিহাস ব্রিটিশ আমলের সঙ্গে জড়িত। আমাদের এই অঞ্চল যখন ব্রিটিশ শাসিত ছিল তখনই পুলিশ ব্যবস্থা চালু হয়েছিল, তবে প্রথম দিকে কোনো নির্ধারিত পোশাক ছিল না। কিছু সময় পর তাদের জন্য সাদা পোশাক করা হয়। কিন্তু এই পোশাক নিয়েও একটা সমস্যা দেখা দেয়, সেটা হল, পুলিশ সদস্যদের সাদা ইউনিফর্ম ডিউটি করার সময় খুব তাড়াতাড়ি নোংরা হয়ে যেত। এতে ব্রিটিশ পুলিশের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা খুবই বিচলিত হয়ে পড়তেন।
ফলে নোংরা আড়াল করতে পুলিশ সদস্যরা তাদের ইউনিফর্ম বিভিন্ন রঙে রাঙাতে থাকে, যা ছিল বিব্রতকর। ১৮৪৭ সালে ব্রিটিশ অফিসার স্যার হ্যারি লুমসডেনের পরামর্শে, পুলিশের ইউনিফর্মটি হালকা হলুদ এবং বাদামি রঙে রাঙানো হয়েছিল। তারপর চা পাতা, পানি ব্যবহার করে সুতির কাপড়ের রং রঞ্জকের মতো তৈরি করে ইউনিফর্মের ওপর লাগানো হতো। যার ফলে পোশাকের রং খাকি হয়ে যায়। সেই বছরই পুলিশে খাকি রঙের পোশাক গৃহীত হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও বাঙালি পুলিশ সদস্যরা খাকি রঙের পোশাক ব্যবহার করেন। অনেকে অবশ্য ‘সাদা পোশাকেও’ লড়াই করেছেন পাক সেনাদের বিরুদ্ধে। তবে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে ২০০৪ সালে। সেই বছর পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করে মহানগরগুলোয় হালকা জলপাই রঙের করা হয়। জেলা পুলিশকে দেওয়া হয় গাঢ় নীল রঙের পোশাক। র্যাবের কালো ও এপিবিএনের পোশাক তৈরি করা হয় খাকি, বেগুনি আর নীল রঙের মিশ্রণে। এমনকি ২০০৯ সালেও কিছুটা পরিবর্তন আসে।
পুলিশ
এবার কেমন হবে পোশাক?

কোটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশ বাহিনীর কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষুব্ধ পুরো দেশের মানুষই। তাই অনেক পুলিশ সদস্য পোশাক নিয়ে অস্বস্তির কথাও জানিয়েছেন। এবার নিশ্চিত পরিবর্তন হলেও এই প্রসঙ্গটা পুরনো। ২০২০ সাল থেকেই বাংলাদেশ পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছিল। ২০২১ সালের শুরুর দিকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের জন্য বেশ কয়েকটি পোশাকের ট্রায়ালও হয়। তারপরও নানা কারণে নতুন পোশাক পায়নি বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা।
সম্প্রতি পুলিশের পোশাক ও লোগো পরিবর্তনের বিষয়ে দশ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। পুলিশের লজিস্টিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উন্নত বিশ্বের ১০-১৫টি দেশের পুলিশের ইউনিফর্ম বিশ্লেষণ করছে বাংলাদেশ। এসব দেশের পুলিশের কাপড়ের মান বিবেচনায় রেখেই নতুন ইউনিফর্মের মান নির্ধারণ করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন ইউনিফর্মেও থাকছে হাফ ও ফুলহাতা শার্টের ব্যবস্থা।
পুলিশ
পোশাকে রং নির্ধারণে

বিশ্বজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক দুই ভাবে নির্ধারণ করা হয়। দেশ-কালের ওপর ভিত্তি করে সেবাসংস্থাগুলোর পোশাক নির্ধারণ করা হয় বেশিরভাগ সময়েই। যেমন শীতপ্রধান দেশগুলোর পুলিশের পোশাকের রং হয় কালো রঙের। সেখানে তাপমাত্রা ধরে রাখার একটা বিষয় পোশাকে যুক্ত থাকে।
গরম বা নাতিশীতষ্ণদেশগুলোতে পুলিশের পোশাক সাদা, খয়েরি বা হালকা রঙের দেখা যায়, যা কিনা তাপ শোষণ কম করে। ভারত বা এই অঞ্চলে বিভিন্ন সেবাসংস্থার পোশাক খাকি হওয়ার আরেকটি কারণ ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ইতিহাস।
ব্রিটিশ পুলিশ হাফ প্যান্ট এবং সাদা রং নির্বাচন করেছিলেন। কারণ এই রংটি সূর্যের তাপকে প্রতিফলিত করে গরমের থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে তারা হাফ প্যান্ট পরতো। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেক আগেই তা বদলে গেছে।
পুলিশ
খরচ হবে অনেক টাকা
বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য সংখ্যা প্রায় দুই লাখ। বাহিনীর পক্ষ থেকেই সকল পুলিশ সদস্যকে পোশাক সরবরাহ বা অর্থায়ন করা হয়। ফলে এই বিপুল সংখ্যক সদস্যের পোশাক পরিবর্তন বাবদ একটা বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হবে। এমনকি লোগো পাল্টাতে গেলেও বাড়তি ব্যয় হবে। কারণ স্থাপনা, যানবাহনসহ অনেক ক্ষেত্রে নতুন লোগো প্রতিস্থাপন করতে হবে।
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, ব্যয়টা প্রচুর এবং অনুৎপাদনশীল খাতে হচ্ছে। এটা আমাদের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কতখানি ঠিক হবে সেটা যারা দেশের ফাইন্যান্স সম্বন্ধে ভালো জানে তারা ভালো বলতে পারবে।
বর্তমান আইজিপি মো. ময়নুল ইসলাম বলেন, ‘এখন যেটা চলছে এই পোশাকটাও দীর্ঘদিনের। এই পোশাক পরে সাম্প্রতিক আন্দোলনে অনেক ঘটনা ঘটেছে। তাই পরিবর্তনকে সবাই স্বাগত জানাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
- নরসিংদীতে শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে
- বন্যা পরিস্থিতিতে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের জুলাই পদযাত্রা ১৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত
- নবম পে-স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্তে আজ সচিব কমিটির বৈঠক
- রাত ১.০০ টায় মুখোমুখি আর্জেনটিনা - ইংল্যান্ড
- সিরিয়া ও লেবানন থেকে সেনা সরানোর আহ্বান ট্রাম্পের, নেতানিয়াহুর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
- সাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা, বৃহস্পতিবার থেকে বাড়তে পারে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি
- তেঁতুলিয়ায় পাটের বাম্পার ফলন, ন্যায্য দাম পেয়ে হাসছেন কৃষক
- ইতালীয় প্রযুক্তিনির্ভর প্রিমিয়াম টাইলস ব্র্যান্ড ‘মিলানো সিরামিকস’ যাত্রা শুরু
- সংবিধান, গণভোট ও নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনায় শফিকুর রহমান
- পেরুতে হলান্ডের নামে পাঁচ শতাধিক শিশুর নামকরণ
- জনগণের প্রতিনিধি শামীম কায়সার লিংকনের জীবন ও রাজনৈতিক পথচলা
- ডা. শফিকুর রহমান: জীবন, চিকিৎসা পেশা ও রাজনৈতিক পথচলা
- মেসি এত ভালো খেলে কেন?’—বিশ্বকাপে জাদুকরি পারফরম্যান্সে বুবলীর অকপট স্বীকারোক্তি
- প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান; যুবক আটক
- পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি কাটার বিষয়টি সত্য নয়: সেতুমন্ত্রী
- এক সময় ঘুমাতেন রাস্তায়, আজ বিশ্বকাপের নায়ক
- মূল্যবান বস্তু ভেবে বাড়িতে নিলেন, পরে জানা গেল মর্টার শেল!
- মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল, দলীয় পদ হারালেন বিএনপির দুই নেতা!
- সৌদিতে শুটিংয়ের সময় ইসলাম গ্রহণ করলেন হলিউড অভিনেতা জিয়ানকার্লো এসপোসিতো
- ত্রিশালে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তার