• বুধবার , ১৭ জুন, ২০২৬ | ২ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাদী হত্যার বিচার দাবিতে পঞ্চগড়ে উত্তাল রাজপথ: সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ২৩

হাদী হত্যার বিচার দাবিতে পঞ্চগড়ে উত্তাল রাজপথ: সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ২৩

খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি
খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০২:০৪ ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

পঞ্চগড়ে শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বাংলাদেশপন্থি শিক্ষার্থীদের আয়োজনে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি ও লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে। এতে অন্তত ২৩ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

জেলা প্রতিনিধি খাদেমুল ইসলামের তথ্যমতে, দুপুর ২টার দিকে পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরঙ্গী মোড়ে গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে, চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। শিক্ষার্থীরা ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারসহ চার দফা দাবি তুলে ধরেন।

বিকেল ৪টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বির সমাপনী বক্তব্য চলাকালে সেনা সদস্যরা মহাসড়ক থেকে আন্দোলনকারীদের সরে যেতে অনুরোধ করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বক্তব্য চলাকালেই সেনা সদস্যরা লাঠিচার্জ করেন, যার ফলে একাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

আহতদের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পঞ্চগড়ের নেতা ফজলে রাব্বী, মোকাদ্দেসুর রহমান সান, আতিকুর রহমান, মজাহারুল ইসলাম সেলিম, খোরশেদ মাহমুদ ও মাহফুজুর রহমানসহ অন্তত ২৩ জন রয়েছেন। তাদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করতে উদ্যোগ নেন। তিনি সৃষ্ট উত্তেজনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ বিষয়ে মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক বলেন, দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরোধ থাকায় সেনা সদস্যরা আন্দোলনকারীদের সরে যেতে বলেন। এ সময় আন্দোলনকারীরা উত্তেজিত হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তিনি দাবি করেন, লাঠিচার্জ করা হয়নি; তবে সরিয়ে দেওয়ার সময় কারো কারো ওপর লাঠির আঘাত লাগতে পারে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/