• বুধবার , ১৯ আগস্ট, ২০২৬ | ৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে প্রথমবার তালেবানের ‘বিজয় দিবস’ অনুষ্ঠান, উপস্থিত ভারতীয় প্রতিনিধিরাও

দিল্লিতে প্রথমবার তালেবানের ‘বিজয় দিবস’ অনুষ্ঠান, উপস্থিত ভারতীয় প্রতিনিধিরাও

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৪৩ ১৮ আগস্ট ২০২৬

আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রথমবারের মতো ‘বিজয় দিবস’ উদযাপন করেছে তালেবান কূটনীতিকরা। সোমবার (১৭ আগস্ট) দিল্লির আফগান দূতাবাসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ অতিথি অংশ নেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে।

অনুষ্ঠানে ভারতীয় সরকারি প্রতিনিধিরা

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন দিল্লিতে আফগান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মুফতি নূর আহমদ নূর। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরানবিষয়ক যুগ্ম সচিব আনন্দ প্রকাশের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

এতে ফিলিস্তিন, ইরান, রাশিয়া, চীন, ইরিত্রিয়া, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, নাইজার, কাতার ও ওমানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। ইউরোপ থেকে সার্বিয়ার কূটনীতিকরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

তবে প্রতিবেশী পাকিস্তানের কোনো প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালেবানকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি ভারত

তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরও ভারত সরকার তাদের শাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ছে।

গত বছরের নভেম্বরে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ভারত সফর করেন। সে সময় তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর পর দিল্লির আফগান দূতাবাসের কার্যক্রমে তালেবানপন্থী কূটনীতিকদের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়।

চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের অধীনে তালেবান কূটনীতিকদের দিল্লিতে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে ভারত এগোচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঞ্চে ছিল ভারত ও তালেবানের পতাকা

অনুষ্ঠানের মঞ্চে ভারতের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি ইসলামিক এমিরেট অব আফগানিস্তানের তালেবান পতাকা রাখা হয়। তবে দূতাবাসের মূল পতাকাদণ্ডে তখনও আগের আফগান সরকারের ব্যবহৃত পতাকা উড়তে দেখা যায়।

অনুষ্ঠানে মুফতি নূর আহমদ নূর আফগানিস্তানে শরিয়াহ আইন প্রয়োগ, নিরাপত্তা জোরদার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, আফগানিস্তানকে নেতিবাচক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে নয়, বরং আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার একটি সেতু হিসেবে দেখতে চায় তালেবান সরকার।

ভারত-আফগান সম্পর্ক জোরদারের বার্তা

ভারত ও আফগানিস্তানের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের বিষয়টিও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। মুফতি নূর জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সফর ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে।

এতে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাবেক সরকারের কূটনীতিকরাও ছিলেন

অনুষ্ঠানে ভারতীয় কূটনীতিক স্নেহাদূবেসহ কয়েকজন নারী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। মোট অতিথির সংখ্যা ছিল প্রায় ২০০।

আশরাফ গনি সরকারের সময়ে দায়িত্ব পাওয়া কিছু আফগান কূটনীতিককে অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে অবস্থান করতে দেখা যায়। তবে তালেবানের এক কূটনীতিক জানান, তারা সবাই বর্তমানে একসঙ্গে কাজ করছেন।

দিল্লিতে তালেবানের পক্ষ থেকে এমন আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ভারত-আফগানিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের দিকটি নতুন করে সামনে এনেছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

বিজ্ঞাপন