• মঙ্গলবার , ২১ জুলাই, ২০২৬ | ৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লামিনে ইয়ামালের সাফল্যের পেছনে দাদির ত্যাগের গল্প, যেভাবে বদলে গেল জীবন

লামিনে ইয়ামালের সাফল্যের পেছনে দাদির ত্যাগের গল্প, যেভাবে বদলে গেল জীবন

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪৬ ২১ জুলাই ২০২৬

বয়স মাত্র ১৯ বছর, অথচ ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত নাম এখন লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনার হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর স্পেন জাতীয় দলের হয়েও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন এই তরুণ উইঙ্গার। তবে মাঠের সাফল্যের আড়ালে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, পারিবারিক ত্যাগ এবং এক মুসলিম নারীর অদম্য প্রচেষ্টার গল্প।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া-এর এক প্রতিবেদনে ইয়ামালের জীবনের এই সংগ্রামী অধ্যায়ের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

মরক্কো থেকে স্পেনে নতুন জীবনের শুরু

ইয়ামালের পারিবারিক শিকড় মরক্কোয়। তাঁর পৈতৃক দাদি ফাতিমা রোমানি পরিবারের ভবিষ্যতের আশায় একসময় একাই স্পেনে পাড়ি জমান।

সেই যাত্রা ছিল সহজ নয়। সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও তিনি নতুন দেশে জীবন শুরু করেন। প্রথমে আলজেসিরাস ও গ্রানাদায় থাকার পর পরে কাতালুনিয়ার মাতোরোর রকাফোন্দা এলাকায় স্থায়ী হন।

সেখানে নিজের সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম শুরু করেন ফাতিমা। একাধিক কাজে যুক্ত হয়ে অর্থ সঞ্চয় করেন এবং শেষ পর্যন্ত মরক্কোতে থাকা সন্তানদের স্পেনে নিয়ে আসতে সক্ষম হন।

ইয়ামালের শৈশবে দাদির বড় ভূমিকা

পরবর্তীতে ইয়ামালের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আবারও নিজের কাঁধে তুলে নেন ফাতিমা।

রকাফোন্দার কঠিন পরিবেশে বেড়ে ওঠার সময় ইয়ামালকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে সাহায্য করেন তিনি। ফুটবলের প্রতি আগ্রহ ধরে রাখতে উৎসাহ দেন এবং পরিবারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখেন।

আজ বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রতিভাবান খেলোয়াড় হয়ে ওঠার পেছনে দাদির সেই অবদান ইয়ামাল কখনো ভুলে যাননি।

রকাফোন্দার প্রতি ভালোবাসার প্রতীক ‘৩০৪’

মাঠে গোল করার পর ইয়ামাল যে ‘৩০৪’ চিহ্ন দেখান, সেটিও তাঁর শৈশবের সঙ্গে জড়িত। এটি মূলত রকাফোন্দা এলাকার পোস্টকোড ০৮৩০৪-এর প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক।

নিজের শিকড়ের প্রতি এই ভালোবাসার মাধ্যমে ইয়ামাল বারবার জানিয়েছেন, তিনি কোথা থেকে উঠে এসেছেন তা কখনো ভুলবেন না।

সাফল্যের পরও ভুলেননি পরিবারকে

ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ইয়ামাল তাঁর অর্জন পরিবারের জন্য ব্যবহার করেছেন। জানা যায়, তিনি রকাফোন্দাতেই দাদি ফাতিমার জন্য একটি বাড়ি কিনে দিয়েছেন।

বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও ইয়ামাল সবসময় তাঁর বাবা-মা ও দাদির সংগ্রামকে নিজের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন।

লামিনে ইয়ামালের গল্প শুধু একজন ফুটবলারের সাফল্যের গল্প নয়, বরং পরিবারের ভালোবাসা, ত্যাগ এবং একজন নারীর অদম্য সংগ্রামের এক অনন্য উদাহরণ।

বিজ্ঞাপন