• শুক্রবার , ০১ মে, ২০২৬ | ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াত প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল: ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াত প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল: ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৪৭ ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত একটি প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল, যা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের নীতি ও কর্মসূচি নিয়মিত পরিমার্জন করছে। তিনি জানান, দল সবসময়ই গণতান্ত্রিক ও জনমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাসী।

ভারতের সাপ্তাহিক ইংরেজি ম্যাগাজিন ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হলেও জনগণের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি। বিশেষ করে ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করেছে, স্থানীয় সরকার পর্যায়ে দল দৃঢ় অবস্থানে ছিল এবং জনগণের সমর্থন অব্যাহত ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে আদালতের রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন ও প্রতীক পুনর্বহাল হওয়ায় সমর্থকেরা নতুন উদ্দীপনায় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত রাজনৈতিকভাবে শুধু প্রস্তুতই নয়, পুরোপুরি প্রস্তুত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে দলের ছাত্রসংগঠনের বিজয় তরুণ ভোটারদের আস্থা প্রদর্শন করে। তিনি আরও বলেন, আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে থাকা অবস্থায়ও দল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ থেকে সরে যায়নি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে যৌথ প্রতীকে অংশ নেওয়া হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা শিখিয়েছে, গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে ঐক্য অপরিহার্য। পাশাপাশি, দল সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করেছে, অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা জোরদার করেছে এবং তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করেছে।

শফিকুর রহমান বলেন, “জামায়াতে ইসলামী নিঃসন্দেহে ক্যাডারভিত্তিক মতাদর্শিক দল। তবে আমাদের আদর্শের মূল হলো—শৃঙ্খলা, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং জনসেবা। বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে ভোটাররা কথার ফুলঝুরি নয়, নীতির রাজনীতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা চান। সেই প্রেক্ষাপটে আমাদের আদর্শিক অবস্থান কোনো দুর্বলতা নয়, বরং শক্তি।”

তরুণ ও প্রথমবার ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করার বিষয়ে তিনি বলেন, “দুর্নীতি, ব্যর্থ প্রতিশ্রুতি এবং অকার্যকর শাসনে হতাশ একটি প্রজন্মের সঙ্গে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি গভীরভাবে মিলে যায়। আমরা তরুণদের সমস্যা হিসেবে দেখি না, বরং জাতীয় উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে দেখি।” দল কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে দেশের তরুণরা বিদেশে না গিয়ে দেশেই মর্যাদাপূর্ণ কর্মজীবন গড়তে পারে।

সমালোচকদের দাবি যে জামায়াতের অতীত তাদের বর্তমানকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে, তা ডা. শফিকুর রহমান প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দলটির ইতিহাস জানে এবং বারবার ব্যালটের মাধ্যমে আস্থা প্রদর্শন করেছে। কোনো দলের অতীতকে আলাদাভাবে তুলে ধরে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণকে অব্যাহত রাখার সুযোগ কেড়ে নেওয়া উচিত নয়।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/