• শুক্রবার , ১৭ জুলাই, ২০২৬ | ২ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথমবারের মতো হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালু করল ভারত

প্রথমবারের মতো হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালু করল ভারত

প্রথমবারের মতো হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালু করল ভারত

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:৪১ ১৭ জুলাই ২০২৬

ভারত প্রথমবারের মতো হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্বোধন করা এই পরিবেশবান্ধব ট্রেনটি হরিয়ানার জিন্দ–সোনিপত রুটের ৮৯ কিলোমিটার পথে চলাচল করবে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানিনির্ভর রেল পরিবহন ব্যবস্থায় এটি ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভারতীয় রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে এবং চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি (ICF)-তে নির্মাণ করা হয়েছে। সফল ট্রায়াল ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষে ট্রেনটি যাত্রী পরিবহনের অনুমতি পায়।

বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী হাইড্রোজেনচালিত ব্রডগেজ ট্রেন

ভারতীয় রেলওয়ের দাবি, এটি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী হাইড্রোজেনচালিত ব্রডগেজ ট্রেন। ট্রেনটিতে রয়েছে দুটি হাইড্রোজেন পাওয়ার কার এবং আটটি যাত্রীবাহী কোচ। প্রতিটি পাওয়ার কার প্রায় ১,২০০ কিলোওয়াট শক্তি উৎপাদন করতে পারে। সম্মিলিতভাবে ট্রেনটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম।

কীভাবে চলে এই ট্রেন?

এই ট্রেনে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ফুয়েল সেল, লিথিয়াম আয়রন ফসফেট (LiFePO₄) ব্যাটারি এবং হাইড্রোজেন সংরক্ষণ সিলিন্ডারের সমন্বয়ে ট্রেনটি পরিচালিত হয়।

ডিজেলচালিত ট্রেনের তুলনায় এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এতে ক্ষতিকর ধোঁয়া বা কার্বন নির্গমন প্রায় নেই। জ্বালানি ব্যবহারের পর প্রধান উপজাত হিসেবে নির্গত হয় জলীয় বাষ্প, যা পরিবেশবান্ধব পরিবহন নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

জিন্দে নির্মাণ করা হয়েছে বিশেষ রিফুয়েলিং কেন্দ্র

প্রকল্পটির জন্য হরিয়ানার জিন্দে একটি আধুনিক হাইড্রোজেন সংরক্ষণ ও রিফুয়েলিং স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। এখান থেকে নিরাপদভাবে সংকুচিত হাইড্রোজেন ট্রেনে সরবরাহ করা হবে। উন্নত প্রযুক্তির কারণে অল্প সময়েই ট্রেনে জ্বালানি ভরা সম্ভব হবে।

নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তি

হাইড্রোজেন দাহ্য হওয়ায় ট্রেনটিতে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযুক্ত করা হয়েছে। গ্যাস লিক, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, ধোঁয়া ও আগুন শনাক্ত করার জন্য বিশেষ সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাইড্রোজেন সরবরাহ বন্ধ করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

পরিবেশবান্ধব রেল ব্যবস্থার নতুন অধ্যায়

হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালুর মাধ্যমে ভারত পরিবেশবান্ধব ও টেকসই রেল প্রযুক্তির নতুন যুগে প্রবেশ করল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির বিস্তার ঘটলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমবে, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে এবং আরও টেকসই গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে ভারতের আরও বিভিন্ন রুটে পর্যায়ক্রমে হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন