• শুক্রবার , ১৪ আগস্ট, ২০২৬ | ৩০ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি ও সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ পদে সম্ভাব্য উত্তরসূরি যারা

বিএনপি ও সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ পদে সম্ভাব্য উত্তরসূরি যারা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:১৭ ১৪ আগস্ট ২০২৬

প্রত্যাশিতভাবেই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর দলের মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রাথমিক সদস্যসহ দলীয় সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভা থেকেও পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল।

জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন—এমন সম্ভাবনা এখন অনেকটাই স্পষ্ট। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দল ও সরকারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হবে। পাশাপাশি সংসদে তার ঠাকুরগাঁও-১ আসনও শূন্য ঘোষণা করা হতে পারে। পরে ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ মহাসচিবের উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে।

মহাসচিব পদে আলোচনায় তিনজন

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দলের ভেতরে তিন নেতার নাম বেশি আলোচনায় এসেছে। তারা হলেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, জাতীয় কাউন্সিলের আগে অথবা কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে বিএনপি প্রাথমিকভাবে একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ করতে পারে। পরে জাতীয় কাউন্সিল বা তার আশপাশের সময়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

রুহুল কবির রিজভীর সম্ভাবনা বেশি

রুহুল কবির রিজভী এবার নির্বাচনে অংশ নেননি এবং তাকে মন্ত্রিসভাতেও রাখা হয়নি। ফলে মহাসচিবের পদ শূন্য হলে তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন দলের দায়িত্বশীল নেতাদের অনেকে।

বিএনপিতে এমন নজিরও রয়েছে। মির্জা ফখরুল নিজেও একসময় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। পরে তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়। পরবর্তী জাতীয় কাউন্সিলে তিনি ভারমুক্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিবের দায়িত্ব পান।

আলোচনায় সালাহউদ্দিন ও আমির খসরু

মহাসচিব পদে সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামও আলোচনায় রয়েছে। দুজনই বিএনপির স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। দলের পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর কারণে তাদের কাউকে সরাসরি মহাসচিব করা হবে কি না, তা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে কে আসবেন?

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও নতুন করে বণ্টন করতে হবে। তবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, নাকি বর্তমান মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হবে—এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পাশাপাশি বিএনপির মহাসচিব ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কারা আসছেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বাড়ছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ বিরোধী দলের সদস্যসংখ্যা সংরক্ষিত নারী আসনসহ ৯০।

এ কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন।

এর আগে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন। বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার পাশাপাশি বিএনপি ও সরকারের শূন্য হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন