• সোমবার , ১০ আগস্ট, ২০২৬ | ২৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তা নিশ্চিতে গানম্যান পেলেন নাহিদ, সারজিস, হাসনাত, জারা সহ ছয়জন

নিরাপত্তা নিশ্চিতে গানম্যান পেলেন নাহিদ, সারজিস, হাসনাত, জারা সহ ছয়জন

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩০ ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া সম্মুখসারির নেতাকর্মী, সমন্বয়ক, সংসদ-সদস্য প্রার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতা ও হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কয়েকজন নেতাকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের উচ্চপর্যায়ের সূত্র একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী—তাদের সবাই গানম্যান পাওয়ার অনুমতি পেয়েছেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এই নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন সম্প্রতি খুলনায় প্রকাশ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার মাথায় গুলিবর্ষণের ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ওই হামলায় গুরুতর আহত ওই নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এই ঘটনা রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এই হামলার প্রেক্ষাপটেই সরকারের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যাদের প্রতি হুমকি বেশি—তাদের ক্ষেত্রেই পর্যায়ক্রমে গানম্যান ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেওয়া হবে।

সরকারের এই উদ্যোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। একদিকে সমর্থকরা বলছেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো রাজনৈতিক নেতাদের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষা করা; অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, সকল দলের জন্য সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে ন্যায়সঙ্গত ও গণতান্ত্রিক পদক্ষেপ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উচ্চঝুঁকিতে থাকা নেতাদের নিরাপত্তা জোরদার করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

বিজ্ঞাপন