হামে শিশু মৃত্যুর অভিযোগে ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন


প্রকাশিত: ০৩:২৯ ৫ জুলাই ২০২৬
হামের টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহে অবহেলার অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনকে আসামি করার আবেদন করা হয়েছে ঢাকার আদালতে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সময়মতো টিকার ব্যবস্থা না করা, চিকিৎসা ব্যবস্থায় অবহেলা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণে দেশে বহু শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রোববার, ৫ জুলাই ২০২৬, ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে আবেদনটি করেন হামে মারা যাওয়া ৯ মাস বয়সী শিশু সাউদা মুসকানের বাবা সিরাজুল ইসলাম। বাদীপক্ষের আইনজীবী তাছলিমা জাহান পপি জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন এবং আদেশ পরে দেবেন বলে রেখেছেন।
আবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে আসামি করার আর্জি জানানো হয়েছে। মামলার আবেদনটি এখনো আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
মামলার আর্জিতে বলা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ও মার্চের শুরুতে শরীয়তপুর সদরের শিশু সাউদা মুসকান তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়েও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় মার্চের প্রথম সপ্তাহে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে শিশুটিকে ২২ মার্চ মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যথাযথ সহযোগিতা করা হয়নি। বাদীপক্ষের দাবি, ২৬ মার্চ শিশুটির মায়ের হাতে অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে শিশুর মুখে লাগাতে বলা হয়। তিনি তা করতে না পারায় পরে হাসপাতালের একজন কর্মচারীর মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর কিছু সময় পর শিশুটির মৃত্যু হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, শিশুদের জন্য হামের টিকার পর্যাপ্ত যোগান সময়মতো নিশ্চিত করা হয়নি। একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। আবেদনে দাবি করা হয়, টিকা কেনা ও প্রয়োগ নিয়ে সরকারের অবহেলার কারণে দেশে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সাউদা মুসকানের মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালত আবেদনকারীর বক্তব্য শুনে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন। এর আগে একই ধরনের অভিযোগে ড. ইউনূস ও নূরজাহান বেগমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে আরেকটি মামলার আবেদন করা হয়েছিল, যা পরে খারিজ হয় বলে আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে বাংলাদেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়ে একটি পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, টিকার আওতার ঘাটতি, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কর্মসূচির দুর্বলতা সংক্রমণ বাড়ার বড় কারণ হতে পারে।
এ ঘটনায় আদালতের পরবর্তী আদেশের ওপর নির্ভর করবে মামলার আবেদনটি গ্রহণ করা হবে, নাকি খারিজ হবে। আদালত আবেদন গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - জাতীয়
- শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর কান ধরে উঠবস, সোনাক্ষী সিনহার ভিডিও ভাইরাল
- এক সময় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
- সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিল্পীদের বার্ষিক ভাতা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল পঞ্চগড়
- কৃষক সেজে ফসলি মাঠ থেকে পলাতক আসামিকে ধরল পুলিশ
- মতিঝিলে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় জামায়াতের উদ্বেগ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
- কিয়েভে ড্রোন প্রদর্শনীতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত অন্তত ১০
- সুবিধা চেয়ে আদালতে পলক: ‘আমার বিরুদ্ধে ৯৮টি মামলা, ৯৯ দিন রিমান্ডে ছিলাম’
- ম্যাজিক চুলায় ভাত রাঁধতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু
- সবজির দামে ‘সেঞ্চুরি’, কাঁচা মরিচ ২৮০ টাকা কেজি
- জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, আমাদেরও ভুলত্রুটি হতে পারে: বিরোধীদলীয় নেতা
- ডা. শফিকুর রহমান: জীবন, চিকিৎসা পেশা ও রাজনৈতিক পথচলা
- হাসনাত আব্দুল্লাহ: ছাত্রজীবন, আন্দোলন ও রাজনৈতিক পথচলা
- বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সামনে পুরোনো রেকর্ড ভাঙার চ্যালেঞ্জ
- ভূরাজনীতি নিয়ে বিভ্রান্তির খেলা: জনগণকে বিভ্রান্ত করার দায় কার?
- চিকিৎসকদের মর্যাদা, স্বাস্থ্যখাতের সংকট এবং রাষ্ট্রের করণীয়
- স্টেজে ঝলমলে থাকার গোপন রুটিন জানালেন শাকিরা
- রংপুরে মসজিদে চেয়ার–টেবিল বসিয়ে জামায়াতের ইউপি প্রার্থী বাছাই সভা, সমালোচনার ঝড়
- সম্ভাবনায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল দ্বৈরথ
- দৃষ্টিহীন তরুণের চিকিৎসার দায়িত্ব নিল ‘অ্যাশেজ’
- কেপ ভার্দের জয় নিয়ে সাহসী ভবিষ্যদ্বাণী, মেসির হার দেখছেন তিমুর লিসতের প্রেসিডেন্ট




