• শুক্রবার , ০৩ জুলাই, ২০২৬ | ১৯ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানের দেওয়া পাঁচটি আধুনিক টহল বোট পেল বাংলাদেশ নৌবাহিনী

জাপানের দেওয়া পাঁচটি আধুনিক টহল বোট পেল বাংলাদেশ নৌবাহিনী

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:১৫ ৩ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়াতে জাপান সরকারের সহায়তায় পাওয়া পাঁচটি আধুনিক উচ্চগতির পেট্রোল বোট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাপানের Official Security Assistance (OSA) কর্মসূচির আওতায় এসব বোট বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা, সমুদ্রবন্দর এলাকায় টহল, নজরদারি কার্যক্রম, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় এসব বোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সমুদ্রসম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নৌবাহিনীর কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিমাদা তোমোয়াকি। অনুষ্ঠানে জাপানের প্রতিনিধিদল, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।

বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং কৌশলগত সহযোগিতার অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের নভেম্বরে পাঁচটি উচ্চগতির পেট্রোল বোট সংগ্রহের জন্য দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়। পরবর্তী সময়ে নোট বিনিময়ের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বোটগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।

জাপানি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যদের এসব বোট পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বানৌজা নির্ভীক-এ এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

প্রতিটি বোটের দৈর্ঘ্য ১৬.১৫ মিটার, প্রস্থ ৩.৫৩ মিটার এবং গভীরতা ১.৭৮ মিটার। এগুলোর ধারণক্ষমতা ১৩.৫ টন এবং সর্বোচ্চ ৩২ নট গতিতে চলাচল করতে সক্ষম। কম গভীরতার পানিপথে চলাচলের উপযোগী হওয়ায় নদী, মোহনা, উপকূলীয় এলাকা এবং দুর্গম নৌপথে দ্রুত অভিযান পরিচালনায় এগুলো বিশেষভাবে কার্যকর হবে।

নৌবাহিনীর মতে, নতুন যুক্ত হওয়া এসব পেট্রোল বোট জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া, উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি, উদ্ধার অভিযান এবং দুর্যোগকালীন সহায়তা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ওএসএ কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এই সহায়তা বাংলাদেশ ও জাপানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে দুই দেশের প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হবে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/