সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন বিধিমালায় নারীদের জন্য আলাদা বড় কোটা বাতিল করে নতুনভাবে ৭ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে আলাদা শিক্ষক পদও এবার তৈরি করা হয়েছে।
নতুন বিধিমালার মূল বিষয়গুলো
১. নিয়োগের ধরন:
- সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি নিয়োগযোগ্য ৯৩ শতাংশ পদ মেধাভিত্তিক হবে।
- বাকি ৭ শতাংশ পদ কোটা হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।
২. কোটার বণ্টন:
- মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য: ৫%
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থীদের জন্য: ১%
- শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য: ১%
উল্লেখযোগ্য, যদি কোটার আওতায় প্রার্থী না পাওয়া যায়, তাহলে শূন্য পদ মেধাভিত্তিকভাবে পূরণ করা হবে।
৩. পদ তৈরি ও নিয়োগ:
- এবার সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে আলাদা সহকারী শিক্ষক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
- নিয়োগ হবে উপজেলা বা থানা ভিত্তিক।
- শিক্ষকরা পদোন্নতি ও সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে নিয়োগ পেতে পারবেন।
- যোগ্যতার শর্ত:
- পদোন্নতি: সহকারী শিক্ষক বা সহকারী শিক্ষক (সংগীত/শারীরিক শিক্ষা) পদে কমপক্ষে ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা ও মৌলিক প্রশিক্ষণ থাকতে হবে।
- সরাসরি নিয়োগ:
- স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি থাকতে হবে।
- শিক্ষাজীবনে তৃতীয় শ্রেণি বা সমমানের GPA গ্রহণযোগ্য নয়।
- লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
- বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয়ে সংরক্ষিত পদ:
- বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য: ২০%
- অন্যান্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য: ৮০%
পুরনো বিধিমালার তুলনা
আগের ২০১৯ সালের বিধিমালায়:
- নারীদের জন্য ৬০% কোটা
- পুরুষদের জন্য ২০% কোটা
- পোষ্য কোটায় ২০%
নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরনো বিধিমালা বাতিল হবে।
বিশেষজ্ঞদের মত
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারী কোটা কমানোর কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের লিঙ্গ ভারসাম্যে প্রভাব পড়তে পারে।
তবে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষার জন্য নতুন পদ সৃষ্টি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।