• সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের ‘মক্কা চুক্তি’, বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণ?

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের ‘মক্কা চুক্তি’, বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণ?

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৫২ ৮ আগস্ট ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে। ‘মক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স এগ্রিমেন্ট’ নামে পরিচিত এই সমঝোতা অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের মক্কায় চুক্তিতে সই করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে এই চুক্তি হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের পাশাপাশি একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে এই সমঝোতা তিন দেশের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

চুক্তি স্বাক্ষরের এক দিন আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে সঙ্গে নিয়ে সৌদি আরবে পৌঁছান। সফরকালে তিনি মক্কায় ওমরাহ পালন করেন। পরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানও সৌদি আরবে গিয়ে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এখন কেন এই চুক্তি?

রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যে বৃহত্তর নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলা এবং এর পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে থাকে।

পরবর্তীতে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা তিন দেশের প্রতিরক্ষা সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাকে আরও বাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্ক ও পাকিস্তান সরাসরি সাম্প্রতিক কিছু আঞ্চলিক হামলার কেন্দ্রে না থাকলেও সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে সামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে।

এর পাশাপাশি ইরান, ইসরায়েল, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে উত্তেজনা নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতা তৈরি করেছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা তিন দেশকে কাছাকাছি এনেছে

আল জাজিরার আঙ্কারা প্রতিনিধি রেসুল সেরদারের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ অক্টোবরের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে।

ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা, ইরানকে ঘিরে সংঘাত, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার আশঙ্কা তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একটি মাত্র কারণ নয়, বরং নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি ও আঞ্চলিক প্রভাবের একাধিক প্রয়োজন এই চুক্তির পেছনে কাজ করেছে।

মার্চেই হয়েছিল প্রাথমিক আলোচনা

চলতি বছরের ১৯ মার্চ ইসলামী সম্মেলনের ফাঁকে রিয়াদে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন।

ওই বৈঠকে সম্ভাব্য যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরবও একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে পৌঁছেছিল।

নতুন মক্কা চুক্তি সেই সহযোগিতাকে তুরস্ককে যুক্ত করে আরও বিস্তৃত কাঠামোয় নিয়ে গেল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তা কাঠামোর বিকল্প?

যুক্তরাষ্ট্রের জার্মান মার্শাল ফান্ডের সাউথ অ্যান্ড ওয়াইডার ইউরোপ অফিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তুরস্কবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক ওজগুর উনলুহিসারচিকলির মতে, বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমে যাওয়ার সময়ে এই চুক্তি আঞ্চলিক কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

তার মতে, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে পার্থক্য থাকলেও তারা কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে একমত।

তিন দেশই শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, কার্যকর কেন্দ্রীয় সরকার এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পতন, গৃহসংঘাত এবং অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর ক্ষমতা বৃদ্ধিকে তারা দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে।

তিন দেশের সক্ষমতা কীভাবে কাজে লাগতে পারে?

নতুন চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হচ্ছে তিন দেশের সামরিক, আর্থিক ও প্রতিরক্ষা-শিল্প সক্ষমতাকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ।

তুরস্ক ন্যাটোর অন্যতম বৃহৎ সামরিক শক্তি এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে।

অন্যদিকে সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানিকারক এবং বড় প্রতিরক্ষা বাজেটের দেশ।

পাকিস্তানের রয়েছে দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা এবং পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা।

উনলুহিসারচিকলি বলেন, তিন দেশের সক্ষমতা একে অন্যকে পরিপূরক করতে পারে। বিশেষ করে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প, সৌদি আরবের আর্থিক সামর্থ্য এবং পাকিস্তানের সামরিক অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত প্রতিরোধক্ষমতা নতুন নিরাপত্তা কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই চুক্তিকে ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

বরং তিনটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক রাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত, সামরিক এবং প্রতিরক্ষা-শিল্প সহযোগিতা বাড়ানোর একটি কাঠামো হিসেবেই এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদির প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন সুযোগ

তুরস্কের হাসান কালিওনচু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুরাত আসলানের মতে, এই চুক্তিতে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল।

তবে দেশটি এখন নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে।

এই ক্ষেত্রে তুরস্কের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, সাঁজোয়া যান ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা এবং পাকিস্তানের সামরিক দক্ষতা সৌদি আরবের জন্য নতুন সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

গোয়েন্দা তথ্য থেকে প্রতিরক্ষা উৎপাদন

আল জাজিরার ওসামা বিন জাভাইদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই চুক্তি বিশ্বের বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠীর তিনটি দেশকে একটি অভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামোয় নিয়ে এসেছে।

সমঝোতার আওতায় সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিরোধ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক প্রশিক্ষণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং অস্ত্র উৎপাদনেও সহযোগিতা বাড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে গত কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে প্রচলিত যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তা কাঠামোর পাশাপাশি একটি নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার উত্থান ঘটতে পারে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া কী?

চুক্তি নিয়ে ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

তবে ইরানের সংসদ সদস্য ইব্রাহিম রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নীতির সমালোচনা করেছেন।

তার বক্তব্যের সারমর্ম হলো, কেবল বিদেশি অংশীদারদের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তিনি সৌদি আরবকে নিজস্ব আঞ্চলিক নীতি পুনর্বিবেচনারও আহ্বান জানান।

ইসরায়েল কী বলছে?

চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় বা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

তবে এক তুর্কি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তি প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে অন্যান্য আঞ্চলিক দেশও এ ধরনের সহযোগিতায় যুক্ত হতে পারে।

তারপরও তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান যে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড এবং আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন, তা বিভিন্ন সময়ে দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

ইসরায়েল নিয়ে এরদোয়ানের কঠোর অবস্থান

জুলাইয়ের শুরুতে ইস্তাম্বুলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রতিষ্ঠায় আঞ্চলিক দেশগুলোর সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দেন।

তিনি ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানেরও বারবার সমালোচনা করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

পাকিস্তানও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে আসছে এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে।

সৌদি আরব ও আব্রাহাম অ্যাকর্ডস

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে আগ্রহী।

তবে সৌদি আরব বলে আসছে, একটি কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি না হলে ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ সম্ভব নয়।

এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর কূটনৈতিক সমীকরণে এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

‘নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা’

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের গালফ ও অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক ইয়াসমিন ফারুকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং মিসরের মধ্যে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্কের পেছনে একটি সাধারণ উপলব্ধি কাজ করছে।

সেটি হলো, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাকে শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপর নির্ভরশীল রাখা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ।

ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত, উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তবে কিছু ইসরায়েলি ও মার্কিন বিশ্লেষক এই যৌথ নিরাপত্তা প্রক্রিয়াকে ইসরায়েলবিরোধী একটি সম্ভাব্য নতুন আঞ্চলিক বলয় হিসেবেও দেখছেন।

অন্যদিকে চুক্তিতে যুক্ত দেশগুলোর দাবি, এটি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়; বরং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণ

মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা, অন্যদিকে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা—এই দুই বাস্তবতার মধ্যেই তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান তাদের নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিল।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, ‘মক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স এগ্রিমেন্ট’ কি শুধু প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি নতুন কাঠামো হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।

বিজ্ঞাপন