• সোমবার , ২০ জুলাই, ২০২৬ | ৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিমার অর্থ পেতে বিষধর সাপ দিয়ে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ২

বিমার অর্থ পেতে বিষধর সাপ দিয়ে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ২

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:০১ ১৯ জুলাই ২০২৬

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মেরঠে স্বামীকে বিষধর সাপ দিয়ে হত্যার অভিযোগে এক নারী ও তাঁর কথিত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ২০ লাখ রুপির বিমার অর্থ এবং পরকীয়া সম্পর্কের কারণে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।

নিহত ব্যক্তির নাম অতুল পওয়ার। তিনি মেরঠের হস্তিনাপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। স্ত্রী দামিনীর সঙ্গে মিলে তিনি শিশুদের একটি স্কুল পরিচালনা করতেন। ২০১৯ সালে তাঁদের বিয়ে হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে দামিনী প্রতিবেশীদের জানান যে তাঁর স্বামীকে সাপে ছোবল দিয়েছে। পরে তিনি অতুলকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

অতুলের বিছানা থেকে একটি বিষধর সাপ উদ্ধার হওয়ায় শুরুতে সাপের ছোবলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে শোবার ঘরের বিছানায় সাপ কীভাবে পৌঁছাল, তা নিয়ে অতুলের পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ তৈরি হয়। পরে তাঁরা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানতে পারে, দম্পতির পরিচালিত স্কুলের গাড়িচালক তুষারের সঙ্গে দামিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এরপর দামিনী ও তুষারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে তুষার দাবি করেন, অতুলকে সাপের ছোবলে হত্যার পরিকল্পনা দামিনী করেছিলেন। সেই পরিকল্পনা অনুসারে একজন সাপুড়ের কাছ থেকে একটি বিষধর সাপ সংগ্রহ করে তিনি দামিনীর কাছে পৌঁছে দেন।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, ঘটনার রাতে অতুলকে ঘুমের ওষুধ মেশানো দুধ পান করানো হয়। তিনি গভীর ঘুমে চলে যাওয়ার পর তাঁর বিছানায় বিষধর সাপটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অতুলের নামে ২০ লাখ রুপির একটি জীবনবিমা ছিল। ওই অর্থ পাওয়ার উদ্দেশ্যেও হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় অতুলের স্ত্রী দামিনী এবং স্কুলের গাড়িচালক তুষারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, সাপ সংগ্রহের প্রক্রিয়া এবং অন্য কেউ এতে জড়িত ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন