• সোমবার , ২০ জুলাই, ২০২৬ | ৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোল্ডেন বুট থেকে নবম ব্যালন ডি’অর-একাধিক অর্জনের সামনে মেসি

গোল্ডেন বুট থেকে নবম ব্যালন ডি’অর-একাধিক অর্জনের সামনে মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:০৯ ১৯ জুলাই ২০২৬

আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পর লিওনেল মেসির সামনে এখন একাধিক ব্যক্তিগত ও দলীয় অর্জনের সুযোগ। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট, তৃতীয় গোল্ডেন বল, দ্বিতীয় বিশ্বকাপ এবং সম্ভাব্য নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে রয়েছেন।

চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে মেসিকে গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পূর্বাভাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কালশির হিসাবে, পুরস্কারটি জয়ের ক্ষেত্রে তাঁর সম্ভাবনা ৫৯ শতাংশ দেখানো হয়েছে।

তবে গোলদাতাদের তালিকায় মেসির সামনে এখন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দুই গোল করার পর ফরাসি তারকার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০টি। তাঁর নামের পাশে রয়েছে চারটি অ্যাসিস্টও।

অন্যদিকে, মেসি এখন পর্যন্ত আটটি গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন। ফলে ফাইনালে অন্তত দুই গোল করতে পারলে তিনি এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে যেতে পারেন। ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও এখন পর্যন্ত এই পুরস্কার জেতা হয়নি আর্জেন্টাইন অধিনায়কের।

ফাইনালে প্রতিপক্ষ স্পেনের বিপক্ষে মেসির পারফরম্যান্স শুধু ব্যক্তিগত পুরস্কারের হিসাবেই নয়, আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তৃতীয় গোল্ডেন বলের হাতছানি

বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল এর আগে দুইবার জিতেছেন মেসি। ২০১৪ সালে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পর প্রথমবার এবং ২০২২ সালে দলকে বিশ্বকাপ জেতানোর পথে দ্বিতীয়বার পুরস্কারটি পান তিনি।

চলতি আসরেও তাঁর গোল, অ্যাসিস্ট ও নেতৃত্ব আর্জেন্টিনার সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে। এবার গোল্ডেন বল জিতলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনবার এই পুরস্কার জয়ের রেকর্ড গড়বেন তিনি।

২০১৪ সালে ফাইনালে উঠলেও জার্মানির কাছে হেরে শিরোপা জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা। আট বছর পর কাতার বিশ্বকাপে সেই আক্ষেপ ঘোচান মেসি। এবার টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিতলে তাঁর বিশ্বকাপ ট্রফির সংখ্যা হবে দুটি।

ব্যালন ডি’অরের হিসাবেও এগিয়ে মেসি

বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স মেসিকে ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকাতেও এগিয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন ক্রীড়া বিশ্লেষণ ও বাজির বাজারে তাঁর সম্ভাবনা বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা নির্ধারণে সাধারণত খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, গোল ও অ্যাসিস্ট, গুরুত্বপূর্ণ ট্রফি জয় এবং বড় ম্যাচে অবদান বিবেচনা করা হয়। বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় সাফল্য এই হিসাবকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

মেসি প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ২০০৯ সালে। সর্বশেষ ২০২৩ সালে পুরস্কারটি জিতে তাঁর মোট ব্যালন ডি’অর সংখ্যা দাঁড়ায় আটটি। এবার আবার পুরস্কারটি পেলে সেটি হবে তাঁর নবম ব্যালন ডি’অর।

তাঁর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পাঁচবার এই পুরস্কার জিতেছেন। রোনালদোর সর্বশেষ ব্যালন ডি’অর এসেছিল ২০১৭ সালে।

স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির পারফরম্যান্স তাই একাধিক অর্জনের হিসাব বদলে দিতে পারে। ভালো একটি ম্যাচ তাঁকে প্রথম গোল্ডেন বুট, তৃতীয় গোল্ডেন বল, দ্বিতীয় বিশ্বকাপ এবং নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন