• মঙ্গলবার , ১৪ জুলাই, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেঁতুলিয়ায় পাটের বাম্পার ফলন, ন্যায্য দাম পেয়ে হাসছেন কৃষক

তেঁতুলিয়ায় পাটের বাম্পার ফলন, ন্যায্য দাম পেয়ে হাসছেন কৃষক

খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি
খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১:২৮ ১৪ জুলাই ২০২৬

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে ৮৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। কৃষকদের উৎসাহিত করতে বীজ ও সারের প্রণোদনাও প্রদান করা হয়েছে।

মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত পানির অভাবে পাট জাগ দিতে কিছুটা সমস্যায় পড়েন চাষিরা। তবে বর্তমানে অধিকাংশ কৃষক পাটের আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোর কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। কৃষকদের মতে, উৎপাদন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় তাদের লোকসানের আশঙ্কা অনেকটাই কমেছে।

স্থানীয় কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে পাট চাষে হালচাষ, বীজ, সার, আগাছা দমন, কীটনাশক, শ্রমিক, পাট কাটা, জাগ দেওয়া, ধোয়া ও শুকানোসহ মোট ব্যয় হয় প্রায় ২১ থেকে ২২ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় গড়ে ১৬ থেকে ১৮ মণ পাট উৎপাদন হচ্ছে। বাজারে পাটের মানভেদে প্রতি মণ ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়ায় কৃষকরা ভালো লাভের আশা করছেন।

তিরনইহাট ইউনিয়নের খয়খাটপাড়া গ্রামের কৃষক সামসুদ্দিন, ইউপি সদস্য জব্বার আলী এবং কৃষক আমিরুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে তারা নিজ নিজ জমিতে পাট চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। বর্তমান বাজারদরে পাট বিক্রি করতে পারলে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে সন্তোষজনক লাভ হবে বলে তারা আশা করছেন।

অন্যদিকে তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের রণচণ্ডী গ্রামের কৃষক আব্দুলের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের বিভিন্ন সহায়তা ও প্রণোদনা সব সময় প্রান্তিক কৃষকদের কাছে পৌঁছায় না। তিনি ভবিষ্যতে এসব সুবিধা আরও স্বচ্ছভাবে বণ্টনের দাবি জানান।

তিরনইহাট এলাকার ডেমগছ গ্রামের কৃষক মো. বেলাল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম জানান, তারা প্রায় ৩০ শতক জমিতে পাট চাষ করেছেন। উৎপাদন ভালো হওয়ায় এখন তাদের প্রত্যাশা, বাজারে ন্যায্যমূল্য বজায় থাকলে এ মৌসুমে পাট চাষ থেকে ভালো আয় হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাবরিনা আফরিন বলেন, চলতি মৌসুমে পাটের উৎপাদন ও বাজারমূল্য—দুই দিকই কৃষকদের অনুকূলে রয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী বছর এ অঞ্চলে পাটের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন