• শনিবার , ১১ জুলাই, ২০২৬ | ২৭ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার অন্ধকারে কিউবা, জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত বিদ্যুৎব্যবস্থা

এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার অন্ধকারে কিউবা, জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত বিদ্যুৎব্যবস্থা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১৭ ১১ জুলাই ২০২৬

এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর দেশটির বড় অংশ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ইউনিয়ন ইলেক্ট্রিকা জানিয়েছে, সান্তা ক্লারা ও সান্তি স্পিরিতুস প্রদেশের মধ্যবর্তী একটি সঞ্চালন লাইনে সমস্যা এবং বৈদ্যুতিক মানের আকস্মিক পরিবর্তন থেকে সর্বশেষ বিপর্যয় ঘটে।

চলতি সপ্তাহের সোমবারও জাতীয় গ্রিড অচল হয়ে পড়েছিল। সেই বিপর্যয়ের পর বিভিন্ন এলাকায় ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ ফিরলেও অনেক মানুষ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন ছিল। শুক্রবারের ঘটনা নিয়ে চলতি বছরে চারবার বড় ধরনের জাতীয় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়ল কিউবা। পুরোনো উৎপাদনকেন্দ্র, দুর্বল সঞ্চালনব্যবস্থা ও জ্বালানির তীব্র ঘাটতির কারণে দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহ দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চিত হয়ে আছে।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব রাজধানী হাভানা থেকে শুরু করে সান্তিয়াগো দে কিউবাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু এলাকায় দিনে অল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে রান্না, খাদ্য সংরক্ষণ, পরিবহন, চিকিৎসাসেবা এবং ছোট ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জরুরি সেবা, হাসপাতাল ও খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

কিউবার সরকার বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক কড়াকড়ি দেশটির বিদ্যুৎ সংকটকে আরও গভীর করেছে। কিউবার প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল মারেরো জ্বালানির স্বল্পতা ও মার্কিন অবরোধকে বর্তমান বিপর্যয়ের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেছেন। দেশটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় তেল, যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ায় পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখা যাচ্ছে না।

তবে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়। ওয়াশিংটনের দাবি, দেশটির অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং পুরোনো জ্বালানি অবকাঠামোর যথাযথ সংস্কার না করাই সংকটের অন্যতম কারণ। অন্যদিকে কিউবা মার্কিন নীতিকে সাধারণ মানুষের ওপর আরোপিত সম্মিলিত শাস্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন আলোচনাতেও কিউবার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পক্ষে বহু দেশ অবস্থান জানিয়েছে।

কিউবা নিজের প্রয়োজনীয় জ্বালানির একটি অংশ উৎপাদন করলেও বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখতে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। দেশটির অভ্যন্তরীণ উৎপাদন মোট চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ পূরণ করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বিদেশি সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষিকাজ এবং পরিবহন খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র কিউবার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি কুপেটের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, কিউবা সরকার জ্বালানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হয়েছে। কিউবা এই পদক্ষেপকে দেশটির অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করার রাজনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহনব্যবস্থার পরিস্থিতিও আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও দীর্ঘ লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে কিউবার কিছু এলাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এর আগে হাভানার বিভিন্ন স্থানে বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে বিদ্যুৎ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। যদিও বিক্ষোভ সীমিত ছিল, তবু টানা সংকট দেশটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কিউবার বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ গ্রিড পুনরায় সচল করে ধাপে ধাপে বিভিন্ন এলাকা সংযুক্ত করার কাজ করছে। তবে জ্বালানির ঘাটতি ও পুরোনো অবকাঠামোর কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

সূত্র: রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

বিজ্ঞাপন